নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া ও সংবাদদাতা, খাতড়া: বাঁদনা পরবে যোগ দিতে আগামী ১২ নভেম্বর জঙ্গলমহলে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওইদিন দুপুরে বাঁকুড়ার রাইপুরে তিনি জনসভা করবেন। রাইপুরের বিরসা মুণ্ডা কলেজ ময়দানে মুখ্যমন্ত্রীর সভা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে পুলিশের তরফে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তার আয়োজন করা হচ্ছে। মঙ্গলবার খাতড়া মহকুমা পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত মুখ্যমন্ত্রীর সভাস্থল ঘুরে দেখেন। জেলাশাসক বলেন, এদিন সভাস্থলের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার কথা থাকলেও বিশেষ কাজে আটকে পড়ায় পুলিশ সুপার পিভিজি সতীশ রাইপুরে যেতে পারেননি। আজ, বুধবার তিনি ওই এলাকায় যেতে পারেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির আধিকারিকদের নিয়ে আগামী শনিবার আমরা সভাস্থলে একটি সমন্বয় বৈঠক করব। সামনে কালীপুজোর ছুটি পড়ে যাবে। তার আগেই মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা (সিএম সিকিউরিটি) আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন। ফলে আমরা আগাম প্রস্তুতি সেরে রাখতে চাইছি।
মুখ্যমন্ত্রীর সভার জন্য গত রবিবার বিরসা মুন্ডা কলেজ মাঠ সহ এলাকার একাধিক জায়গা পরিদর্শন করেছিলেন রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়ন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু, বাদনা পরব কমিটির সভাপতি তথা কুড়মি সমাজের নেতা পরিমল মাহাত সহ অন্যান্য নেতা ও কর্মীরা। বাঁদনা পরব শুধু একটি উৎসব নয়, জঙ্গলমহলের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও সামাজিক মিলনের অন্যতম উপলক্ষ্য। কালীপুজোর পর এই পরবকে কেন্দ্র করে গোরু খুটান সহ নানা লোকাচার পালিত হয়। আদিবাসী ও কুড়মি সমাজ-সহ এলাকার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ উৎসবে শামিল হয়। সেই পরবেই মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিত থাকাকে ঘিরে উৎসাহ তৈরি হয়েছে স্থানীয় কুড়মি সমাজের মানুষজন থেকে শুরু করে আদিবাসী সমাজের মানুষজনের মধ্যে। পরব কমিটি তথা কুড়মি নেতাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তিনি রাইপুরে আসতে সম্মত হয়েছেন। তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে।



