নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: আজ, মঙ্গলবার শিলিগুড়িতে দলের ২০ হাজার কর্মী-সমর্থক নিয়ে মেগা মিছিল করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু তাই নয়, তিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সহযোদ্ধা বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা মাখনলাল সরকার, ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটার রিচা ঘোষ ও বিশিষ্ট চিকিৎসক পিডি ভুটিয়ার বাড়িতেও যেতে পারেন বলে খবর।
বিজেপির উত্তরবঙ্গের কো-কনভেনর রাজু সাহা বলেন, দেশ বিরোধী কার্যকলাপ করছে বিরোধীরা। তারা দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। দেশের সংবিধান, আইন, আদালত মানছে না। এর প্রতিবাদেই মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে।
কয়েকদিন আগেই মিছিল নিয়ে প্রস্তুতি বৈঠক করে বিজেপি। ইতিমধ্যে তারা দলীয় পতাকা, ঝান্ডা, ফ্লেক্স, ব্যানারে গোটা শহর সাজিয়ে তুলেছে। অধিকাংশ ব্যানার ও ফ্লেক্সে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি রয়েছে। সোমবারও ওই কর্মসূচির শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে মাল্লাগুড়িতে পার্টি অফিসে বিজেপির কার্যকর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করেন।
দলীয় সূত্রে খবর, আজ সকাল থেকেই বাঘাযতীন পার্কে জমায়েত হবেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়, শিলিগুড়ি মহকুমার বিভিন্ন গ্রাম এবং জলপাইগুড়ি জেলা থেকে গাড়িতে করে কর্মী-সমর্থকরা আসবেন। এজন্য চারটি প্রান্তে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বেলা আড়াইটে নাগাদ বাঘাযতীন পার্ক থেকে মিছিল শুরু হবে। নেতৃত্ব দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে থাকবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। মিছিলে দলীয় পাতাকার পাশাপাশি জাতীয় পতাকাও থাকবে। পুরসভার সামনে দিয়ে কাছারি রোড, হিলকার্ট রোড হয়ে মিছিল যাবে মহত্মা গান্ধী মোড় পর্যন্ত।
দলের রাজ্য কমিটির নেতা বাপি গোস্বামী বলেন, এটা মূলত শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ির কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মিছিল। এর বাইরে মিছিলে কোচবিহার থেকে মালদহ পর্যন্ত দলের ন’টি সাংগঠনিক জেলা কমিটির কার্যকর্তা, এমপি, বিধায়ক ও মন্ত্রীরা আসবেন।
উত্তরবঙ্গ বিজেপির ঘাঁটি। এখানকার অধিকাংশ বিধানসভা ও লোকসভা কেন্দ্র তাদের দখলে। এজন্য রাজ্যে পালাবদলের পর শিলিগুড়িতে এসে এই এলাকাকে দলের ‘ভদ্রাসন’ ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু, এখানে ফের সক্রিয় হচ্ছে বিরোধীরা। বিশেষ করে সিপিএম ও কংগ্রেস গা ঘামাতে শুরু করেছে। পুজোয় বুক স্টলে হামলার অভিযোগ তুলে বই পড়ুন, বই বাঁচান কর্মসূচি নিয়ে পাড়ায়, মহল্লায় ঘুরছে সিপিএম। ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও কর্মসূচি নিয়ে কংগ্রেসও শহর ও গ্রামে পথসভা করছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পন্থী তৃণমূলও মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমনকী সংশ্লিষ্ট তিনটি দল এখানে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াইয়ের উদ্যোগও নিয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে পদ্ম শিবিরের এই কর্মসূচি তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, আগামী বছর এখানে পুরসভা ও মহকুমা পরিষদের নির্বাচন। কাজেই ওই মিছিলের মধ্যদিয়ে বিজেপি নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করছে। সেইসঙ্গে তারা বিরোধীদের কোমর ভেঙে দেওয়ার টার্গেট নিয়েছে। • নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছেন পুলিশের আধিকারিকরা।



