সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: বিগত দিনে হাওড়া জেলাতে অনেক রকম অশান্তি ঘটেছে। শেষে পালাবদলের পর রাজ্যের অন্যান্য অংশের মতো এই জেলাতেও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে। যাঁরা একটা সময় ভাবতেন নরেন্দ্র মোদির অনুগামীরা ক্ষমতায় এলে হয়তো অন্যদের ধর্মপালনে অসুবিধা হবে, তাঁরা আরও একবার ভুল প্রমাণিত হলেন। আমাদের রাষ্ট্রবাদের সরকার। বিশেষ করে যাঁরা ভারত মাতাকে সম্মান করবেন, জাতীয় পতাকাকে সম্মান করবেন, ভারতীয় সংস্কৃতিকে মর্যাদা দেবেন, যাঁদের পূর্ণাঙ্গ বন্দেমাতরাম সঙ্গীত গাইতে অসুবিধা নেই, ২৬ জানুয়ারি বা ১৫ আগস্ট পালন করতে যাঁদের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নেই, তাঁদের সবরকম অসুবিধা-সমস্যায় এ সরকার পাশে আছে।
বৃহস্পতিবার রাতে পাঁচলায় শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী উৎসবে অংশ নিতে এসে এই কথা বললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি বলেন, এই সরকার উগ্রতা, রাষ্ট্রবিরোধিতা, সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও তোষণ এবং ভোট ব্যাংকের রাজনীতি বরদাস্ত করে না। সব অনুষ্ঠানই আনন্দের সঙ্গে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গীতা শুধুমাত্র একটি ধর্মগ্রন্থ নয়। এটি একটি আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞানের গ্রন্থ বলে আমি মনে করি। তাই চাই গীতার প্রচার, প্রসার ঘটুক।
এদিন তিনি বলেন, জন্মাষ্টমীর উৎসবে সবাইকে একটা কথা বলব। দেশকে ভালবাসতে হবে। নিজ ধর্মে আস্থা রাখতে হবে। অন্য ধর্মকে শ্রদ্ধা-সম্মান জানাতে হবে। তবে কোনোভাবে মৌলবাদ, উগ্রবাদকে আশ্রয় করা যাবে না। দেশের ভিতর থেকে দেশবিরোধী কোনো কথা বলা যাবে না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা যাঁরা প্রশাসনে থাকি, তাঁরা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। সমালোচনা শুনতে হয়। কিন্তু গেরুয়া তাণ্ডব শব্দটা ঠিক নয়। আপনারা দয়া করে গেরুয়াকে আক্রমণ করবেন না। তিনি বলেন, এই বাংলা শুধু সাংস্কৃতিক রাজধানী নয়। এটি আধ্যাত্মিক জাগরণেরও রাজধানী। তাই আমরা একটি তীর্থক্ষেত্র সার্কিট তৈরি করছি। সমস্ত পুরনো মঠ-মন্দির সংস্কারের দায়িত্ব আমাদের। হেরিটেজ কমিশন তৈরি করছি। পুরনো মঠ-মন্দিরের ঐতিহ্য আবার নতুন করে ফিরিয়ে আনব।
তিনি বলেন, হাওড়া জেলার বাউরিয়া, শ্যামপুর, ধুলাগড়ে অতীতে যা হয়েছে, আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন, এরকম কোনো ঘটনা আর কোনোদিন হবে না। এদিনের এই অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক অমিত সামন্ত, বিধায়ক চিরণ বেরা, জেলাশাসক পি দীপাপপ্রিয়া, শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাসঙ্ঘের সভাপতি প্রত্যুষ মণ্ডল প্রমুখ। নিজস্ব চিত্র