Bartaman Logo
৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তদন্তে গণপিটুনিও, ৭২ ঘণ্টা সময়সীমা মুখ্যমন্ত্রীর

বারুইপুরে নাবালিকার ধর্ষণ-খুনের তদন্তে মুখ্যমন্ত্রী ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছেন। পুলিশি গাফিলতির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ। বিস্তারিত পড়ুন।

তদন্তে গণপিটুনিও, ৭২ ঘণ্টা সময়সীমা মুখ্যমন্ত্রীর
  • ৮ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বারুইপুর ও নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বারুইপুর কাণ্ডে আঙুল উঠেছে পুলিশের দিকেও। নাবালিকার ধর্ষণ-খুনের তদন্তে পুলিশি গাফিলতির যে অভিযোগ উঠেছে, তাতে বেশ অসন্তুষ্ট মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে তাঁর নির্দেশ—গাফিলতিতে জড়িত সমস্ত পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। সাসপেন্ড করতে হবে তাঁদের। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তিনদিন সময় চেয়ে নেন ডিজি। পরে শুভেন্দু বলেন, ‘এ সংক্রান্ত রিপোর্ট দেওয়ার জন্য ডিজিকে ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। রিপোর্টে যদি কোনো পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে এক শতাংশ শিথিলতার অভিযোগ থাকে, তাহলে স্ট্রং অ্যাকশন নেওয়া হবে।’ নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধুমাত্র সন্দেহের বশেই উন্মত্ত জনতা পিটিয়ে মেরেছিল ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে এক টোটো চালককে। সেই ইন্দ্রজিৎ ‘নির্দোষ-নিরীহ’ বলেই জানিয়েছেন শুভেন্দু। এদিন বারুইপুর পুলিশ সুপারের অফিসে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় ওই যুবকের পরিবার। খুনে জড়িতদের কড়া শাস্তির আশ্বাস দেন শুভেন্দু। রাতের মধ্যেই দু’জনকে আটক করা হয়েছে বলে খবর।

Advertisement

এদিন বারুইপুর পুলিশ সুপারের অফিস থেকে ভিডিও কনফারেন্সে কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বারুইপুরের মতো ঘটনা যাতে রাজ্যে আর কোথাও না ঘটে, তার জন্য কড়া নজরদারি ও যথাযথ পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সন্তানের খুনিদের কড়া শাস্তির দাবি জানায় নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবার। পাশাপাশি সূর্যপুর এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির অনুরোধও জানানো হয়। পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সূর্যপুরে পুলিশ আউটপোস্ট হবে। প্রয়োজনে বাড়ি ভাড়া নিয়ে তা চালু হবে। পীড়িত পরিবারের সঙ্গে দেখা হয়েছে। সরকার, মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশের উপর আস্থা রয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। আমার কাছে এটাই বড়ো প্রাপ্তি।’
টোটো চালক ইন্দ্রজিৎকে পিটিয়ে খুন করার পাশাপাশি এলাকাজুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছিল উন্মত্ত জনতা। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশের গাড়ি ভাঙা, রেল লাইন উপড়ে ফেলার ঘটনায় ২০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। একজনকেও ছাড়া হবে না। প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করা হবে। এসটিএফ সব রেকর্ড জোগাড় করেছে।’ মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এই তাণ্ডবে উসকানি দিয়েছে কট্টরবাদী ও দেশবিরোধী শক্তি। তাদেরও চিহ্নিত করে ‘ঠিকমতো শিক্ষা’ দেওয়া হবে।   
সন্ধ্যায় সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী, লাহেক আলি, মোনালিসা সিনহা সহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে বারুইপুর থানার দ্বারস্থ হয়েছে বারুইপুর বিজেপির চার নম্বর মণ্ডল। অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, সোশ্যাল মিডিয়া ও জনসমক্ষে প্ররোচনা-উসকানিমূলক মন্তব্য, মিথ্যা খবর প্রচার ও দাঙ্গা লাগানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান বিজেপি নেত্রী পায়েল ধর। জবাবে সুজনবাবু বলেন, ‘বিজেপির প্রতিহিংসার রাজনীতি। হতাশার প্রতিফলন। ওরা ভয় পাচ্ছে।’ মোনালিসার কটাক্ষ, ‘প্রতিবাদ জানানো অপরাধ? কোন রাজ্যে আছি আমরা?’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ