Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সোনা ও রুপোজয়ীকে অভিনন্দন মুখ্যমন্ত্রীর, বাড়ি ফিরল দ্বিতীয় স্থানাধিকারী হাওড়ার ঐশিক

বিশ্বের ৩৫ দেশের প্রতিযোগীর সঙ্গে লড়াই করে বাজিমাত বাংলার দুই খুদে দাবাড়ুর। সোনা জিতেছে সর্বার্থ মণি। রুপো পেয়েছে হাওড়ার ঐশিক মণ্ডল।

সোনা ও রুপোজয়ীকে অভিনন্দন মুখ্যমন্ত্রীর, বাড়ি ফিরল দ্বিতীয় স্থানাধিকারী হাওড়ার ঐশিক
  • ১৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বিশ্বের ৩৫ দেশের প্রতিযোগীর সঙ্গে লড়াই করে বাজিমাত বাংলার দুই খুদে দাবাড়ুর। সোনা জিতেছে সর্বার্থ মণি। রুপো পেয়েছে হাওড়ার ঐশিক মণ্ডল।

Advertisement

জর্জিয়ায় ‘ফিডে চেস ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৫’ প্রতিযোগিতায় অনূর্ধ্ব ১০ বিভাগে পদক জিতেছে দুই শিশু। দু’জনকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চলতি সপ্তাহে হাওড়ায় বাড়ি ফিরেছে ঐশিক। ওর স্বপ্ন, গুকেশের মত একদিন ও ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে দেশের হয়ে খেলতে নামবে।
সাঁতরাগাছির ধারসায় বাড়ি ঐশিকের। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। বাবা-মা চাকরি সূত্রে আমেরিকায় থাকতেন। সেখানে ছ’বছর বয়সে দাবায় হাতেখড়ি ঐশিকের। দুষ্টুমি কমাতে ও পড়াশোনায় মনোযোগ বসাতে একপ্রকার জোর করেই দাবার ক্লাসে ভর্তি করিয়েছিলেন বাবা সুকান্তবাবু। তারপর শিশুটির মগজাস্ত্রের ক্ষমতা সামনে আসে। শেখার পাশাপাশি ছোটখাটো প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শুরু করে। ২০২২ সালে দেশে ফেরে। প্র্যাকটিস চালিয়ে যায়। ওড়িশার এক প্রশিক্ষকের কাছে অনলাইনে ক্লাস নেয়। দেশে ফিরে জেলাস্তরের প্রতিযোগিতাগুলিতে অংশ নিত। জেলা ওপেন টুর্নামেন্টে এই মুহূর্তে সর্বকনিষ্ঠ চ্যাম্পিয়ন। এরপর ওড়িশা, দিল্লি, দক্ষিণ ভারতে অনুষ্ঠিত একের পর এক প্রতিযোগিতায় সফল হয়। জাতীয়স্তরে ইন্দোর, বিহারে খেলার পর গতবছর পুনেতে অনূর্ধ্ব ৯ বিভাগে প্রথম পাঁচের জায়গা করে নেয়। এর ভিত্তিতে জর্জিয়ার বাটুমিরে ফিডে ওয়ার্ল্ড ক্যাডেট চেস কাপ ২০২৫ এর জন্য নির্বাচিত হয়। ২২ জুন থেকে তিন জুলাই পর্যন্ত ওয়ার্ল্ড ক্যাডেট চেস কাপ চলেছে। অংশ নিয়েছিল ৩৫টি দেশ। তিনটি বিভাগ ছিল। অনূর্ধ্ব ১০ বিভাগে খেলেছে ঐশিক। রাশিয়া, আমেরিকা, চিন, জর্জিয়া, মঙ্গোলিয়া, কাজাকিস্তান, তুর্কির মত একাধিক দেশের সঙ্গে লড়ে গ্রুপ-বি’তে প্রথম হয়। অন্যদিকে গ্রুপ-এ’তে প্রথম হয় বাংলার সর্বার্থ মণি। এরপর শেষ দু’দিন ঐশিক ও সর্বার্থের মধ্যে চলে ফাইনাল। শেষে টাইব্রেকারে সর্বার্থ প্রথম স্থান দখল করে। দ্বিতীয় হয় ঐশিক। 
এ সপ্তাহে বাড়ি ফিরেছে ঐশিক। ওর মা বলেন, ‘পড়াশোনায় মনোযোগী করে তুলতে ছেলেকে দাবায় ভর্তি করে দিয়েছিলাম। এই সাফল্যে আমরা সবাই গর্বিত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ভীষণ গর্ব হচ্ছে।’ দাবার পাশাপাশি পড়াশোনাতেও মেধাবী ঐশিক। অবসর সময় টিনটিন, হ্যারি পটার, অ্যাসটেরিক্স, বাঁটুল দি গ্রেট পড়ে। ঐশিক বলে, ‘এত বড় জায়গায় খেলতে গিয়ে প্রথমে ভয় হচ্ছিল। কিন্তু জেতার পর ভয় কেটে গিয়েছে। গুকেশের মতো ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে চাই।’

সম্পর্কিত সংবাদ