নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তারাতলার ঘটনায় মৃতদের পরিবারের হাতে মঙ্গলবার দশ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রত্যেক আহত ব্যক্তিকে এক লক্ষ টাকা দেওয়া হল। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা সংক্রান্ত সমস্তরকম সহযোগিতারও আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন পশ্চিমবঙ্গের ১১ জন এবং বিহারের ৫ জন মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহযোগিতা তুলে দেওয়া হয়। আহত ১৭ জনের মধ্যে ১৩ জন পশ্চিমবঙ্গের, তিনজন বিহারের এবং দুজন উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত, কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডেসহ একাধিক মন্ত্রী এবং পদস্থ আধিকারিকরা। তারাতলা কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে তাঁর সরকার একাধিক পদক্ষেপ করছে বলে আশ্বস্ত করেন শুভেন্দু। এই ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সদস্যদের মতামতও জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী।
এই ঘটনায় মৃত পাপ্পু রজকের স্ত্রী শিউলি রজক বলেন, তাঁর স্বামীই ছিলেন সংসারে একমাত্র রোজগেরে সদস্য। তাঁর ছেলের বয়স ১৪। এই কথা বলেই কেঁদে ফেলেন শিউলি। একটা কাজ দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন তিনি। আহত আরমান খানের আরজি চিকিৎসায় সরকারি সহযোগিতা। সকলের কথা শোনার পর, মুখ্যমন্ত্রী জানান, শ্রমদপ্তরের সেস ফান্ড থেকে এসব করার সুযোগ কতটা রয়েছে সে-সম্পর্কে সাত-দশ দিনের মধ্যে অফিসাররা তাঁকে জানাবেন। সেখান থেকে প্রতিমাসে কীভাবে সাহায্য করা যায়, সেটা সরকার দেখবে।
একইসঙ্গে কলকাতা পুরসভা এবং পুর কমিশনারকেও মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন এঁদের কাজের সুযোগ করে দিতে। বৈঠকে উপস্থিত কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার-১ ডিপি সিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করেন সিপি অজয় নন্দা। তার কিছুক্ষণ পরই মুখ্যমন্ত্রীকে সিপি জানান, এই পরিবারগুলিতে মাধ্যমিক পাশ কেউ থাকলে কলকাতা পুলিশে তাঁদের ‘সিভিল’ কাজে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানার পর, আগ্রহী পরিবারগুলিকে কলকাতা পুলিশে যোগাযোগ করার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে প্রয়োজনে সরকারি আবাসিক স্কুলে তাঁদের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ব্যবস্থাও করা যেতে পারে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। যেসব আহত ব্যক্তির এখনও চিকিৎসা দরকার, সেদিকেও নজর দিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীও সেইমতো দ্রুত কাজে নেমে পড়েছেন। আহত ব্যক্তি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁদের ফোন নম্বরও নিয়েছেন তিনি।