বিশেষ সংবাদদাতা, রায়পুর: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ‘গ্যারান্টি’ ছিল ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে মাওবাদীমুক্ত হবে ভারত। গত বছরের শেষ থেকেই টার্গেট পূরণে ঝাঁপিয়েছে তাঁর বাহিনী। সেই লড়াইয়ে বড়সড় সাফল্য মিলল রবিবার। একেবারে ডেরায় ঢুকে নিকেশ করা হল ৩১ জন মাওবাদীকে। ছত্তিশগড়ে বিজাপুরের এই সংঘর্ষে শহিদ হয়েছেন ২ জওয়ানও। জখম আরও ২।
Advertisement
ইন্দ্রাবতী ন্যাশনাল পার্ক। এর গভীর জঙ্গলে ঘাঁটি গেড়েছে মাওবাদীরা। এই ইনপুট মিলেছিল শনিবার রাতে। সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয় ব্লু-প্রিন্ট। নাম ‘অপারেশন ন্যাশনাল পার্ক’। রবিবার ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় অভিযান। ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড (ডিআরজি), স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ), বস্তার ফাইটার্সের ৬৫০-এর বেশি জওয়ান ঘিরে ফেলেন গোটা জঙ্গল। এরপর শুরু হয় বৃত্তের পরিধি কমানোর পালা। ঘন জঙ্গলের সুযোগ নিয়ে বৃত্তের বাইরে চলে এলেও একজনও মাওবাদী যাতে পালাতে না পারে, তৈরি ছিল সেই বিকল্প প্ল্যানও। সকাল ৮টা নাগাদ শুরু হয় তুমুল গুলি লড়াই। অরণ্যের নিস্তব্ধতাকে ভেঙে চুরমার করে দেয় বুলেটের শব্দ। প্রায় ২ ঘণ্টা পর নিঃস্তব্ধ জঙ্গল। শুরু ‘গিনতি’। ১, ২, ৩, ৪... একেবারে ৩১। প্রত্যেকের পরনে ‘ইউনিফর্ম’। নিথর দেহ। বাহিনীর গুলিতে ডেরাতেই ঝাঁঝরা তারা। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় একে-৪৭, ইনসাস, এসএলআর, .৩০৩ রাইফেল, ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার্স, বিস্ফোরক সহ বিপুল অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ। সূত্রের খবর, কয়েক দফায় দু’পক্ষের মধ্যে গুলির লড়াই হয়েছে। যেখান দিয়েই মাওবাদীরা পালানোর চেষ্টা করেছে, সেখানেই তাদের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে বাহিনীর বুলেট। বস্তার রেঞ্জের ইনসপেক্টর জেনারেল অব পুলিস সুন্দররাজ পি জানান, ইন্দ্রাবতী ন্যাশনাল পার্ক এলাকায় গুলির লড়াই চলেছে। বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৩১ জন মাওবাদীর দেহ মিলেছে। মাওবাদী দমনে চলতি বছরের সর্ববৃহৎ সাফল্য মেলার পর বাহিনীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। হিন্দিতে টুইট করে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ মাওবাদী-মুক্ত হবে।’ মাওবাদীদের বিরুদ্ধে বাহিনীর এই সফল এনকাউন্টারে অবশ্য প্রাণ গিয়েছে দুই জওয়ানেরও। নাম নরেশ কুমার ধ্রুব এবং বসিত রাবতে। ‘শহিদ’ দুই জওয়ানকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেও সাঁই।
বিজাপুর বরাবরই মাওবাদী অধ্যুষিত বলেই পরিচিত। তবে সম্প্রতি বাহিনীর একের পর অভিযানে তারা যথেষ্ট কোণঠাসা। এবছর নিকেশ হওয়া ৮১ মাওবাদীর মধ্যে ৬৫ জনই বস্তার ডিভিশনের সাতটি জেলার। গতবছর ৪ অক্টোবর নারায়ণপুরা ও দান্তেওয়াড়া জেলার সীমানা লাগোয়া আবুজমার এলাকায় বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে মৃত্যু হয়েছিল ৩৮ জনের। সবমিলিয়ে ২০২৪ সালে ছত্তিশগড়ে গুলির লড়াইয়ে প্রাণ হারিয়েছে মোট ২১৯ জন। হাতে আর মোটে ১ বছর ২ মাস। টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন স্বয়ং অমিত শাহ।
বিজাপুর বরাবরই মাওবাদী অধ্যুষিত বলেই পরিচিত। তবে সম্প্রতি বাহিনীর একের পর অভিযানে তারা যথেষ্ট কোণঠাসা। এবছর নিকেশ হওয়া ৮১ মাওবাদীর মধ্যে ৬৫ জনই বস্তার ডিভিশনের সাতটি জেলার। গতবছর ৪ অক্টোবর নারায়ণপুরা ও দান্তেওয়াড়া জেলার সীমানা লাগোয়া আবুজমার এলাকায় বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে মৃত্যু হয়েছিল ৩৮ জনের। সবমিলিয়ে ২০২৪ সালে ছত্তিশগড়ে গুলির লড়াইয়ে প্রাণ হারিয়েছে মোট ২১৯ জন। হাতে আর মোটে ১ বছর ২ মাস। টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন স্বয়ং অমিত শাহ।



