নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: কয়েকমাস আগে এক পরিবারের লোকজন হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছিলেন এক বৃদ্ধকে। কিন্তু ওই বৃদ্ধ সুস্থ হয়ে যাওয়ার পরও ছুটি করিয়ে তাঁকে আর বাড়িতে নিয়ে যাননি। ফলে বারাসত হাসপাতালেই ঠাঁই হয়েছে অশোকনগরের বাসিন্দা সত্তরোর্ধ্ব কুমুদ হাওলাদারের। হাত-পা, শরীর তেমন সচল নয়। সঠিকভাবে কথাও বলতে পারেন না। হাসপাতালে আসা রোগীর পরিজনদের কাছে ভিক্ষা করে আধপেটা খেয়েই দিন কাটান তিনি। ভেজা ভেজা গলায় তাঁর আক্ষেপ, আমি অবিবাহিত। নিজের বলতে কিছু নেই। আগে যখন টাকা রোজগার করতাম বাড়িতে ঠাঁই ছিল, সবাই খোঁজ নিত। কিন্তু এখন সব হারিয়েছি। তাই থাকতে হচ্ছে হাসপাতালের বিশ্রামাগারে!
Advertisement
অশোকনগর শহরের বাসিন্দা কুমুদ হাওলাদার। অবিবাহিত কুমুদবাবু আগে ছোটখাট ব্যবসা করতেন। দাদা-ভাইয়ের সঙ্গে একসঙ্গেই থাকতেন। তাঁর এক ভাইপো প্রাক্তন সরকারি আমলা। ভাইঝি কলকাতার প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক। অশোকনগর শহরের সুপ্রতিষ্ঠিত পরিবারের সদস্য কুমুদবাবু। আট মাস আগে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা তখন তাঁকে বারাসত হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানেই সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়েও দেওয়া হয়। কিন্তু ওই পরিবারের লোকজন তাঁকে ছুটি করিয়ে আর বাড়িতে নিয়ে যাননি। হাসপাতালেই ফেলে রেখে দেন। হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন পাওয়া পোশাকই এখন ভরসা তাঁর। আর কোনও মানুষ মাঝেমধ্যে তাঁকে খাবার বা পোশাক দেন। সেই নিয়ে কোনওরকমে হাসপাতালের বিশ্রামাগারে থাকছেন তিনি।
কুমুদবাবু বললেন, কোনওরকমে আমি পড়ে রয়েছি হাসপাতালে। বাড়ির লোকজন রেখে দিয়ে গিয়েছে। কবে নিয়ে যাবে, জানি না। শনিবার থেকে অসুস্থ। জ্বরে খেতেও পারছি না। তবুও প্রতীক্ষালয়েই থাকতে হচ্ছে। এনিয়ে হাসপাতালের এক কর্মী অভিজিৎ বিশ্বাস বলেন, সোমবার হাসপাতালে গিয়ে দেখি, জ্বরে কাতরাচ্ছেন ওই বৃদ্ধ। জিজ্ঞাসা করে জানতে পারি, উনি যথেষ্ট নামী বাড়ির সদস্য। বয়স হয়েছে। তাই ওঁর ভার হয়তো পরিবার বহন করতে চাইছে না। তবে, এদিনই আমরা ওঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়েছি। আমরা চাই প্রশাসন বিষয়টিতে নজর দিক। নিজস্ব চিত্র
কুমুদবাবু বললেন, কোনওরকমে আমি পড়ে রয়েছি হাসপাতালে। বাড়ির লোকজন রেখে দিয়ে গিয়েছে। কবে নিয়ে যাবে, জানি না। শনিবার থেকে অসুস্থ। জ্বরে খেতেও পারছি না। তবুও প্রতীক্ষালয়েই থাকতে হচ্ছে। এনিয়ে হাসপাতালের এক কর্মী অভিজিৎ বিশ্বাস বলেন, সোমবার হাসপাতালে গিয়ে দেখি, জ্বরে কাতরাচ্ছেন ওই বৃদ্ধ। জিজ্ঞাসা করে জানতে পারি, উনি যথেষ্ট নামী বাড়ির সদস্য। বয়স হয়েছে। তাই ওঁর ভার হয়তো পরিবার বহন করতে চাইছে না। তবে, এদিনই আমরা ওঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়েছি। আমরা চাই প্রশাসন বিষয়টিতে নজর দিক। নিজস্ব চিত্র



