নিউ ইয়র্ক: চলতি মরশুমে দু’দলের ঝুলিতেই রয়েছে ইউরোপিয়ান ট্রফি। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বাদ পায় পিএসজি। আর উয়েফা কনফারেন্স লিগ জেতে চেলসি। সেই সুবাদে ইউরোপিয়ান সার্কিটে প্রথম ক্লাব হিসেবে চারটি মেজর টুর্নামেন্টে খেতাব জয়ের নজির গড়ে লন্ডনের ক্লাবটি। তবে এবার দু’দলের কাছে সুযোগ ক্লাব ফুটবলে বিশ্ব আঙিনায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের। রবিবার নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে নামছে চেলসি ও পিএসজি। চলতি টুর্নামেন্টে দু’দলই দুরন্ত ফুটবল মেলে ধরেছে। গ্রুপ পর্বে একটি করে ম্যাচ হারলেও, নক-আউটের লড়াইয়ে অপ্রতিরোধ্য দেখাচ্ছে পিএসজি’কে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের নিরিখে অবশ্য রবিবার কিছুটা হলেও এগিয়ে লুই এনরিকে ব্রিগেড। তবে চেলসি বিনা লড়াইয়ে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ।
কোচ লুই এনরিকের প্রশিক্ষণে স্বপ্নের ফর্মে রয়েছে পিএসজি। ক্লাব বিশ্বকাপেও সেই ছন্দ ধরে রেখে ইন্তার মায়ামি, বায়ার্ন মিউনিখের পর শেষ চারের লড়াইয়ে শক্তিশালী রিয়াল মাদ্রিদকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করে পার্ক দ্য প্রিন্সেসের ক্লাবটি। সেমি-ফাইনালে চার গোলে জয় নিঃসন্দেহে খেতাবি লড়াইয়ের আগে বারতি আত্মবিশ্বাস জোগাবে ভিতিনহা-হাকিমিদের। এখনও পর্যন্ত টুর্নামেন্টে ১৬বার প্রতিপক্ষের জাল কাঁপিয়েছেন পিএসজি অ্যাটাকাররা। বোতাফোগোর বিরুদ্ধে মাত্র একবারই পরাস্ত হতে হয়েছে গোলরক্ষক ডোনারুমাকে। সেই ধাক্কা সামলে পরপর চার ম্যাচে দুর্গ অক্ষত রাখতে সফল পিএসজি ডিফেন্ডাররা। তবে ফাইনালের আগে এই সকল পরিসংখ্যানকে মাথায় রাখতে নারাজ কোচ এনরিকে। বরং চেলসিকে যথেষ্ট সমীহ করছে তিনি। তাঁর কথায়, ‘ফাইনালের লড়াই সবসময় আলাদা। এখানে কোনও দল ফেভারিট হয় না। গোটা টুর্নামেন্টে ছেলেরা দারুণ ফুটবল খেলেছে। শেষ ম্যাচেও ওদের থেকে সেটাই চাহিদা।’
কোচ এনজো মারেস্কার হাত ধরে চলতি মরশুমে ঘুরে দাঁড়িয়েছে চেলসি। ইতিমধ্যেই ইপিএলে প্রথম চারে শেষ করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের যোগ্যতা অর্জন করেছে তারা। পাশাপাশি জিতেছে উয়েফা কনফারেন্স লিগ। তবে ক্লাব বিশ্বকাপ জিতে পায়ের তলার জমি আরও শক্ত করতে চান কোচ মারেস্কা। সেই লক্ষ্যেই পিএসজি’কে টেক্কা জিতে তৈরি এনজো ফার্নান্ডেজ-কোল পামাররা। চেলসি কোচের কথায়, ‘দুর্দান্ত এক মরশুম কাটিয়েছি আমরা। প্রিমিয়ার লিগে প্রথম চারে শেষ করার পর কনফারেন্স লিগ জয়। তবে এখনও লড়াই শেষ হয়নি। ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে জিতে খেতাব ঘরে তোলাই লক্ষ্য।’
ম্যাচ শুরু রাত ১২-৩০ মিনিটে।