নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: পরিত্যক্ত কুয়োয় পড়ে গেল এক পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ। সোমবার সাতসকালে শহর শিলিগুড়ির অদূরে দাগাপুর চা বাগান এলাকার ডামরাগ্রামে ঘটনাটি ঘটে। চা শ্রমিকদের কয়েকজন চিতাবাঘটিকে দেখার পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয়রা মহানন্দা ওয়াইল্ডলাইফ স্যানচুয়ারির বনবিভাগের কর্মীদের খবর দেন। বনকর্মীরা এসে আড়াই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় পরিত্যক্ত কুয়ো থেকে চিতাবাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া চিতাবাঘটিকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর গভীর জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিন চিতাবাঘ উদ্ধারের ঘটনা চাউর হতেই প্রচুর মানুষ ভিড় জমান। ফলে প্রথমদিকে কিছুটা হলেও হিমশিম খেতে হয়েছিল বনকর্মীদের। যদিও, ঘটনাটা সকাল আটটা নাগাদ হওয়ায় এলাকাবাসী ছাড়া অন্যান্য চা বাগান, রাজ্যসড়কের পথচারীরা কিছু টের পাওয়ার আগেই বন বিভাগ চিতাবাঘটিকে কুয়ো থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এলাকায় আরও চিতাবাঘ থাকতে পারে বলে ধারণা বাসিন্দাদের। এলাকায় আরও চিতাবাঘ আছে কি না, বনদপ্তরের আধিকারিকদের কাছে তা খতিয়ে দেখার আর্জি জানিয়েছেন চা শ্রমিকরা।
মহানন্দা ওয়াইল্ড লাইফ স্যানচুয়ারির এডিএফও সন্তু দাস বলেন, আমরা খবর পাওয়ার পর দ্রুত এলাকায় পৌঁছে সমস্ত রকমের সাবধানতা অবলম্বন করে চিতাবাঘটিকে উদ্ধার করেছি। ঘটনায় কেউ জখম হননি।
বন বিভাগের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এলাকাটা মূলত জঙ্গল দিয়ে ঘেরা বলে চিতাবাঘের থাকা মোটেই বড় বিষয় নয়। খুব স্বাভাবিকভাবেই এলাকাবাসীদের বারবার করে বন্যপ্রাণী থেকে সজাগ থাকার জন্য সচেতন করা হয়। তবে এলাকায় বন্যপ্রাণী দেখা গেলে দ্রুত বনকর্মীদের জানাতে হবে। কোনওভাবেই প্রাণীকে বিরক্ত করা যাবে না। এতে সে পাল্টা হামলা চালাতে পারে। সকলকে বন্যপ্রাণীদের থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার বার্তা দেন আধিকারিকরা।
স্থানীয়রা বলছেন, এলাকায় একটা চিতাবাঘ ধরা পড়েছে মানে আরও চিতাবাঘ থাকতেই পারে। সেক্ষেত্রে স্থানীয়দের উপর হামলা হলে বিপদ হয়ে যাবে। সেজন্য অবিলম্বে এলাকায় বনকর্মীদের টহলদারি বাড়ানো প্রয়োজন। নিজস্ব চিত্র।