রামকুমার আচার্য, আরামবাগ: পূর্ব বর্ধমান ও হুগলি জেলার বাসিন্দাদের যৌথ উদ্যোগে রথ যাত্রা দেখতে ভিড় জমান হাজার হাজার মানুষ। পূর্ব বর্ধমানে জগন্নাথদেবের বাস্তু বাড়ি। হুগলিতে মাসির বাড়ি। কবি কঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর জন্মস্থান মাধবডিহি থানার দামিন্যা থেকে গড়ায় রথের চাকা। হুগলির আরামবাগ থানার মলয়পুর-১ পঞ্চায়েতের পূর্ব হরিপুরে এসে থামে রথের চাকা। জগন্নাথদেবের স্নান যাত্রা থেকেই ওই দুই গ্রামে শুরু হয়েছে রথের প্রস্তুতি। কবি কঙ্কন মুকুন্দরাম রথ যাত্রা কমিটির উদ্যোগে এই রথ যাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবার তা ১২ তম বর্ষে পড়ল। রথ যাত্রা পরিচালনায় রয়েছেন দুই জেলার বাসিন্দারাই।
রথ কমিটির সভাপতি পূর্ব হরিপুরের বলরাম ঘোষ বলেন, আমাদের এলাকায় রথ যাত্রা উৎসব হতো না। বাইরে গিয়ে দেখতে যেতে হতো। তাই নিজেদের এলাকায় রথের অভাব মেটাতে আমরা পরিকল্পনা নিই। ১২ বছর আগে এলাকার বাসিন্দাদের সাহায্যে রথ যাত্রা শুরু করি। দুই জেলার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক মধুর। নিত্যদিন যাতায়াতও রয়েছে দুই জেলার বাসিন্দাদের। ফলে উভয়ের উদ্যোগেই শুরু হয় রথ যাত্রা। আমাদের উদ্যোগের সঙ্গে রয়েছেন এলাকার সংখ্যালঘুরাও।
কমিটির সম্পাদক ধনঞ্জয় দেবনাথ পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দা। তিনি বলেন, দেড় কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে আমাদের রথ যাত্রা পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রত্যেকবারই হাজার হাজার মানুষ রথের রশিতে টান দেন। দামিন্যাতে রথ যাত্রা শুরু হয়ে পূর্ব হরিপুরে থামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দামিন্যা বাজারে নির্দিষ্ট মন্দিরে থাকে সুদৃশ্য রথ। হুগলির পূর্ব হরিপুরে মিলন ঘোষের বাড়িতেই জগন্নাথদেবের মাসির বাড়ি। সেখান থেকেই আবার উল্টো রথের চাকাও ঘোরে। কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, রথ যাত্রার সঙ্গে সঙ্গে শোভাযাত্রাও হয় নজরকাড়া। সেখানে ২৯ টি শ্রীখোলের মাধ্যমে হরিনাম সংকীর্তন হয়। তারসঙ্গে চলে সং সাজার প্রতিযোগিতাও। কমিটির তরফে শিল্পীদের পুরস্কার দেওয়ার চলও রয়েছে। এমনকী, রথ যাত্রা উৎসবের মাঝে হরিনাম সংকীর্তনের আসরও বসে। এলাকার বাসিন্দাদের আর্থিক সাহায্যে এই রথ যাত্রা উৎসব হয়ে আসছে। আগে চোট আকারে রথ করা হয়েছে। কিন্তু, তারপর তা বড় আকারে লোহার পাত দিয়ে বানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। দুই জেলার বাসিন্দাদের উৎসাহ থাকে তুঙ্গে। এবছরও রথ যাত্রার প্রস্তুতি শুরু করেছেন কমিটির সদস্যরা। বাইরে থেকেও বহু মানুষ এই রথ দেখতে ভিড় জমান। আগামী দিনে রথ যাত্রা নিয়ে আরও নানা আয়োজনের পরিকল্পনা রেখেছেন কমিটির সদস্যরা।