


চণ্ডীগড়, ২৬ মে: হরিয়ানার সিরসা মহিলা থানায় ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ঘটে যাওয়া গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দুই পাকিস্তানি নাগরিক-সহ মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)।
চার্জশিটে নাম থাকা অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন পাকিস্তানি নাগরিক ও মূল হ্যান্ডলার শাহজাদ ভাট্টি এবং সোহেল আহমদ ওরফে সোহেল বালোচ। এছাড়াও গ্রেপ্তার হওয়া ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে রয়েছেন ধীরাজ ওরফে ধিরু, বিকাশ ওরফে ভিক্কি, সন্দীপ ওরফে ডাইমার, বিকাশ, সুশীল ওরফে সিল্লু, মহম্মদ সিজান ওরফে গাজি এবং গুরজন্ত সিং।
পঞ্চকুলার বিশেষ এনআইএ আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ), ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) এবং বিস্ফোরক পদার্থ আইনের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানি গ্যাংস্টার থেকে জঙ্গিতে পরিণত হওয়া শাহজাদ ভাট্টির নেতৃত্বে এই হামলার ছক কষা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল ভারতে পুলিশ স্থাপনা ও পুলিশ কর্মীদের নিশানা করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা। তদন্তে উঠে এসেছে, শাহজাদ ও সোহেল সামাজিক মাধ্যম এবং এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতীয় যুবকদের নিয়োগ ও উগ্রপন্থায় প্রভাবিত করার কাজ করত। এনআইএর তদন্ত অনুযায়ী, ভারতের বিভিন্ন স্থানে কার্যকরী মডিউল গড়ে তুলে স্থানীয় সদস্যদের মাধ্যমে পুলিশ স্টেশনে গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা করা হয়। ধীরাজ ছিল শাহজাদের অন্যতম প্রধান ভারতীয় সহযোগী, যে স্থানীয় মডিউলগুলির সঙ্গে সমন্বয় সাধনের দায়িত্বে ছিল। তদন্তে আরও জানা যায়, হামলার আগে অভিযুক্তরা সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থলগুলির রেইকি চালায় এবং পরে সিরসার মহিলা থানাকে হামলার জন্য বেছে নেয়। হামলায় ব্যবহৃত গ্রেনেড সংগ্রহের জন্য তারা পঞ্জাবের অমৃতসরে গিয়ে গুরজন্ত সিংয়ের কাছ থেকে বিস্ফোরক সংগ্রহ করেছিল।
২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর সংঘটিত ওই গ্রেনেড হামলার ভিডিও মোবাইল ফোনে রেকর্ড করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে এনআইএ। তদন্তকারীদের দাবি, হামলার পরও অভিযুক্তরা পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিল। এনআইএ জানিয়েছে, অর্থ জোগান, হামলার পরিকল্পনা, বিস্ফোরক সংগ্রহ এবং জঙ্গি কার্যকলাপ বাস্তবায়নের পুরো চক্রের প্রমাণ মিলেছে। পাশাপাশি এই মামলায় বিদেশি যোগসূত্র ও আর্থিক লেনদেনের দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।