নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: গ্রেপ্তারের পর থেকেই নজর ছিল তদন্তের গতির দিকে। আর সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল বৃহস্পতিবার। মাত্র ৩৫ দিনের মধ্যেই বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ১৫০ পাতার চার্জশিট পেশ করল বাগুইআটি থানার পুলিশ। সব্যসাচী দত্তের পর বারাসত আদালতে তৃণমূলের ‘হেভিওয়েট’ এক নেতাকে ঘিরে হল বড়ো আইনি পদক্ষেপ। জমা পড়ল তোলাবাজির দ্বিতীয় চার্জশিট। এই চার্জশিটে তোলাবাজির অভিযোগের পাশাপাশি উঠে এসেছে ‘সংগঠিত অপরাধের’ একাধিক অভিযোগও। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১১১ ধারায় মামলা সাজিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। এদিন বারাসত আদালতের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ।
শুধু চার্জশিট পেশ করাই নয় মামলার দ্রুত শুনানি শুরুর আবেদনও জানানো হয়েছে আদালতের কাছে। তদন্তকারী মহলের একাংশের মতে, চার্জশিট দ্রুত জমা পড়ায় মামলাটিকে দ্রুত বিচার পর্বে নিয়ে যাওয়ারই ইঙ্গিত মিলছে। উল্লেখ্য, দেবরাজের বিরুদ্ধে তোলাবাজি-সহ একাধিক সংগঠিত অপরাধের অভিযোগ ওঠার পরই শুরু হয় আইনি লড়াই। গ্রেপ্তার এড়াতে হাইকোর্টে রক্ষাকবচ চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। তারপরেই ১ জুলাই পুরুলিয়া-ঝাড়খণ্ড সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে বাগুইআটি থানার পুলিশ। গ্রেপ্তারের ঠিক ৩৫ দিনের মাথায় আদালতে জমা পড়ল চার্জশিট। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযোগ কোনো একক ঘটনার নয়। তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক ভুক্তভোগীর বক্তব্য। অভিযোগকারীর বয়ানের সঙ্গে মিলেছে সেইসব সাক্ষ্য। নথি, তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষ্য মিলিয়েই তৈরি হয়েছে ১৫০ পাতার চার্জশিট। তোলাবাজির পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১১১ ধারায় সংগঠিত অপরাধের অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছে। মামলায় সরকার পক্ষের বিশেষ আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, অভিযোগকারীর বক্তব্য তদন্তে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একাধিক ভুক্তভোগীর বয়ানেও সেই অভিযোগের সমর্থন মিলেছে। সেসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তোলাবাজির পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১১১ ধারায় সংগঠিত অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।