নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসায় নারকেলডাঙায় খুন হন বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার। সেই মামলায় বুধবার তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক পরেশ পাল সহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ এনে চার্জ গঠিত হল। কলকাতার বিচারভবনের বিশেষ আদালতের বিচারক সন্তোষকুমার পাঠক এই নির্দেশ দেন।
আদালতে সিবিআইয়ের অভিযোগ, প্রাক্তন বিধায়কের প্ররোচনার ফলে এই খুন। যদিও অভিযুক্ত ১৯ জনই আদালতে বলেন, ‘তাঁরা নিদোর্ষ।’ বিচারক এই খুনের মামলার বিচার প্রক্রিয়ার দিন ধার্য করেন আগামী ১৭ জুলাই। ওইদিন নিহত বিজেপি কর্মীর মা মাধবী সরকার আদালতে সাক্ষ্য দেবেন। আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে মৃত বিজেপি কর্মীর দাদা বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, ‘আমরা খুশি। কিছুটা হলেও আইনি যুদ্ধে জয়ী হয়েছি। আমাদের একটাই দাবি, এই মামলার শুনানি দ্রুত গতিতে হোক।’
আদালত সূত্রে খবর, ২০২১ সালে ২ মে ভোটের ফল ঘোষণার দিন নারকেলডাঙার বাড়ির কাছে নৃশংসভাবে খুন হন বিজেপি কর্মী। তাঁকে পিটিয়ে মারা হয়। এই খুনের মামলায় তৎকালীন কলকাতা পুলিশের তদন্তে চূড়ান্ত গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। মৃতের পরিবার ন্যায় বিচারের স্বার্থে কলকাতা হাইকোর্টে যায়। উচ্চ আদালত মামলার তদন্তভার দেয় সিবিআইকে। মামলা শিয়ালদহ আদালত থেকে স্থানান্তরিত হয় কলকাতার বিচারভবনে। মামলায় একাধিক অভিযুক্ত ‘পলাতক’ থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। সিবিআইয়ের অপরাধ দমন শাখা পলাতক অভিযুক্তদের খুঁজে পেতে প্রত্যেকের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করে। পরে একে একে অভিযুক্তরা সিবিআইয়ের জালে ধরা পড়ে। এই মামলায় পরবর্তী সময় তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দেয়। সেখানে অভিযুক্ত করা হয় তৃণমূল নেতা পরেশ পাল, স্বপন সমাদ্দার সহ একাধিকজনকে। সেই তালিকায় রয়েছে দুই পুলিশ আধিকারিকের নামও। দীর্ঘ আইনি গেরো কাটিয়ে অবশেষে এদিন আদালত চার্জ গঠন করল।