Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিধাননগরে ‘রূপশ্রী’ আবেদনকারীর বাড়ি গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ পুরসভার কর্মীদের! ২টি গাড়ি, এসি, লক্ষ টাকার স্মার্ট টিভি

‘বাবা গাড়িচালক। সামান্য রোজগার। দয়া করে দেখবেন স্যার, আমরা খুবই গরিব। যেন অনুদানটা পাই।’ বিধাননগর পুরসভায় আবেদনের সময় বিভাগের কর্মীদের কাছে কাতর অনুরোধ করলেন তরুণী।

বিধাননগরে ‘রূপশ্রী’ আবেদনকারীর বাড়ি গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ পুরসভার কর্মীদের! ২টি  গাড়ি, এসি, লক্ষ টাকার স্মার্ট টিভি
  • ২৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ‘বাবা গাড়িচালক। সামান্য রোজগার। দয়া করে দেখবেন স্যার, আমরা খুবই গরিব। যেন অনুদানটা পাই।’ বিধাননগর পুরসভায় আবেদনের সময় বিভাগের কর্মীদের কাছে কাতর অনুরোধ করলেন তরুণী। আবেদন গ্রহণ করে শুরু হয় তদন্ত। আর তাতেই চোখ কপালে ওঠে কর্মীদের! কারণ, তাঁরা সরেজমিনে খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারেন, তরুণীর বাবা মোটেও গাড়িচালক নন। তিনি আসলে দু’টি গাড়ির মালিক! শুধু তাই নয়, বাড়িতে এসি, দেওয়ালে লক্ষ টাকার স্মার্ট টিভি, মডিউলার কিচেন সহ আরও কত কী!

Advertisement

ধরা পড়ার পর অবশ্য কাঁচুমাচু অবস্থা— ‘ভুল হয়ে গিয়েছে স্যার।’ তরুণীর আবেদন বাতিল করেছে দপ্তর। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন এই ধরনের কাজ না করেন, সে ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে তাঁকে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই তরুণীর বাড়ি কৈখালি এলাকায়। সম্প্রতি তিনি নিজেই সল্টলেকে গিয়ে ‘রূপশ্রী’ প্রকল্পের বিভাগে আবেদন করেন। এই প্রকল্পে কারা আবেদন করতে পারেন, তার নির্দিষ্ট তালিকা দেওয়া আছে বিভাগগুলিতে। গাইডলাইন অনুযায়ী, যেসব পরিবারের আয় বছরে দেড় লক্ষ টাকার কম, সেই সব পরিবারের তরুণীরাই ‘রূপশ্রী’র আবেদন করতে পারেন। এছাড়াও প্রথম বিয়ে হতে হবে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পাত্র-পাত্রী দু’জনকেই বিবাহযোগ্য হতে হবে। যে কোনো আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এরকম কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। আবেদনের পর সরকারি কর্মীরা সরেজমিনে তদন্ত করেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আর্থিক সহায়তার অনুমোদন মেলে। তারপর এককালীন ২৫ হাজার টাকা পাত্রীর অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়।
এক্ষেত্রে আবেদন পেয়েই পুরসভার তরফে ‘রূপশ্রী’ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা অংশুমান ধর সহ দু’জন কর্মী তদন্তে যান। তাঁরা গিয়ে দেখেন, পরিবারটি মোটেও গরিব  নয়। অংশুমানবাবু বলছিলেন, ‘গরিব সেজেই আবেদন করেছিলেন তরুণী। গিয়ে দেখলাম, দু’টি গাড়ির মালিক ওঁরা। ভাড়ায় গাড়ি দেন। সঙ্গে সঙ্গে ওই আবেদন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি টাকা যাতে কোনোভাবেই অপচয় না হয়, তার জন্য আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রেই এভাবে তদন্ত করি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ