চাপড়া: সিপিএম ও কংগ্রেসের সমর্থনে আরও এক পঞ্চায়েত বিজেপির
  • ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: তাদের শক্ত ঘাঁটি চাপড়ায় একের পর এক পঞ্চায়েত হাতছাড়া হচ্ছে তৃণমূলের। এবার চাপড়ার বিধায়ক জেবের শেখের নিজের পঞ্চায়েত পিঁপড়াগাছি দখল করল বিজেপি। সোমবার পঞ্চায়েতের তলবি সভায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সিপিএম ও কংগ্রেসের সদস্যদের সমর্থনে প্রধান নির্বাচিত হলেন বিজেপির কৃষ্ণ হালদার। এই নিয়ে চাপড়া ব্লকে বিজেপির দখলে থাকা পঞ্চায়েতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ছয়। বিধানসভা নির্বাচনে চাপড়া থেকে তিরিশ হাজারেরও বেশি ভোটে তৃণমূল জয়ী হলেও পঞ্চায়েত স্তরে এই পালাবদল রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

সোমবার পিঁপড়াগাছি পঞ্চায়েতে প্রধান নির্বাচনের সভায় মোট ১৬ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে বিজেপির ছয়, সিপিএমের দু’জন, কংগ্রেসের দু’জন এবং তৃণমূলের ছয় সদস্য ছিলেন। বিজেপির তরফে প্রধান পদের জন্য কৃষ্ণ হালদারের নাম প্রস্তাব করা হয়। বিরোধী শিবির থেকে আর কোনো প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করা হয়নি। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধান নির্বাচিত হন কৃষ্ণ হালদার। বিজেপির দাবি, তৃণমূলের ছয় সদস্যের সমর্থন ছাড়াই মোট ১০ জন সদস্যের সমর্থনে প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন তাঁদের প্রার্থী।
নদীয়া উত্তরের বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তথা চাপড়ার বিজেপি নেতা উৎপল ঘোষ বলেন, ‘চাপড়ার মানুষ এতদিনে দেখেছেন, তৃণমূল কীভাবে সন্ত্রাসের রাজনীতি করেছে। পালাবদলের পর সেই ভয় কাটতে শুরু করেছে। দুর্নীতির কারণে মানুষ উন্নয়ন ও পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আগামী দিনে পিঁপড়াগাছি পঞ্চায়েতের মাধ্যমে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। দলের একনিষ্ঠ সদস্য পঞ্চায়েত প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন। সভায় ১৬ জন উপস্থিত থাকলেও ১০ সদস্যের সমর্থনে তিনি প্রধান হয়েছেন।’ উল্লেখ্য, পিঁপড়াগাছি পঞ্চায়েতে মোট ২৭ আসন রয়েছে। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল ১৪, সিপিএম চারটি, কংগ্রেস তিনটি এবং বিজেপি ছ’টি আসনে জয়ী হয়েছিল। এতদিন পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন মুকুল মজুমদার। কিন্তু পালাবদলের পর তিনি প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেন। এরপরই নতুন প্রধান নির্বাচনের জন্য সোমবার তলবি সভা ডাকা হয়। 
পিঁপড়াগাছি দখলের আগে থেকেই চাপড়া ব্লকে বিজেপির হাতে ছিল বাগেবেড়িয়া, কলিঙ্গ ও মহেশপুর পঞ্চায়েত। পালাবদলের পর সম্প্রতি চাপড়া-১ ও মহৎপুর পঞ্চায়েতও বিরোধী শিবিরের সদস্যদের সমর্থন নিয়ে দখল করে বিজেপি। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল পিঁপড়াগাছি। ফলে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত চাপড়া ব্লকে পঞ্চায়েত স্তরে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে।
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে দলের অভ্যন্তরীণ দূরত্বের ফল বলেই ব্যাখ্যা করেছেন চাপড়ার ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল বিধায়ক জেবের শেখ। তিনি বলেন, ‘একদিন হঠাৎ ফোন করে আমাকে জানানো হয়, পঞ্চায়েত প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিতে চান তিনি। তখন তাঁকে সবাইকে নিয়ে পঞ্চায়েত চালানোর পরামর্শ দিয়েছিলাম। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় আমি দলের বাইরে ছিলাম। সেই সময় সংশ্লিষ্ট প্রধান তৎকালীন ব্লক সভাপতি ও বিধায়কের ছত্রছায়ায় ছিলেন। তাই ওই সদস্যদের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ ছিল না।’
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ের পরও চাপড়ায় তৃণমূলের একের পর এক পঞ্চায়েত হাতছাড়া হওয়া শাসকদলের কাছে নতুন করে অস্বস্তির কারণ হতে পারে।