নাগোয়া: ওলিম্পিকসে রুপো, বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ ও কমনওয়েলথ গেমসে সোনা— মীরাবাঈ চানুর পুরস্কারের ক্যাবিনেট রীতিমতো ঝলমলে। অথচ তাতে ছিল না এশিয়ান গেমসের পদক। অবশেষে মিটল সেই আক্ষেপ। বুধবার এশিয়াডে ভারোত্তোলনে রুপো জেতার পর চানুর মন্তব্য, ‘জীবনের বৃত্ত পূর্ণ হল। পরম স্বস্তি পেলাম।’ মীরাবাঈয়ের সাফল্যের দিনে নজর কাড়লেন নাওরেম রোশিবিনা দেবী। উশুতে সোনার স্বপ্ন জাগালেন তিনি। মহিলাদের ৬০ কেজি বিভাগে ফাইনালে উঠে রুপো নিশ্চিত করেন রোশিবিনা। সেমি-ফাইনালে ইন্দোনেশিয়ার থানিয়া কুসুমানিংথিয়াসকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছেন তিনি।
গেমসের চতুর্থ দিনে ভারতীয় শিবিরে প্রত্যাশার কেন্দ্রে ছিলেন মীরাবাঈ চানু। ৪৯ কেজি বিভাগে ফাইনাল রাউন্ডে পৌঁছানো ৭ প্রতিযোগীর মধ্যেই এই ৩২ বছর বয়সিই ছিলেন প্রবীণা। স্ন্যাচে ৮৭ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১১১— মোট ১৯৮ কেজি ওজন তুলে রুপো জিতলেন তিনি। সেই সঙ্গে ভারোত্তলেন ভারতের ২৮ বছরের খরাও কাটল। শেষবার ১৯৯৮ এশিয়ান গেমসে এই ইভেন্টে পদক (ব্রোঞ্জ) জিতেছিলেন কর্ণাম মালেশ্বরী। এদিন চানুর ইভেন্টে সোনা জেতেন উত্তর কোরিয়ার রিং সং গাম। এদিন তিনি ছিলেন রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য। মোট ৩টি বিশ্বরেকর্ড গড়ে এশিয়াডে সোনার হ্যাটট্টিক করলেন রিং সং। ৪৯ কেজি বিভাগে মোট ২১৮ কেজি ওজন তোলার নজির গড়েন। শুধু তাই নয়, স্ন্যাচ (৯৪ কেজি) এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে (১২১ কেজি) তাঁর নামে লেখা হল বিশ্বরেকর্ড।
উশুতে রীতিমতো চমক দিয়ে ফাইনালে উঠেছেন রোশিবিনা। ২০১৮-তে ব্রোঞ্জ এবং ২০২২-এ রুপো জয়ের পর জাপানে সোনার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন তিনি। মণিপুরের তনয়া উশুর সান্ডা বিভাগে কোয়ার্টার ফাইনালে ৫-০ জয়ের পর শেষ চারেও দাপট দেখালেন। বৃহস্পতিবার চীনের ঝাং জিয়াওয়ুর বিরুদ্ধে সোনার লড়াইয়ে নামবেন তিনি। অথচ প্রাথমিকভাবে ভারতের এশিয়ান গেমস স্কোয়াডেই ছিলেন না রোশিবিনা! দিব্যাংশী চোট পাওয়ায় পরিবর্ত হিসাবে তাঁকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সুযোগের সদ্ব্যবহারে ভুল করেননি তিনি।
অন্যদিকে, শ্যুটিংয়ে হতাশ করলেন ওলিম্পিকসে জোড়া পদক জয়ী মানু ভাকের। ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে পঞ্চম স্থান পেয়ে খালি হাতেই রেঞ্জ ছাড়লেন তিনি। তবে ভারতের পুরুষ ব্যাডমিন্টন দল ব্রোঞ্জ পেল। বুধবার চীনের কাছে ১-৩ ব্যবধানে হারেন লক্ষ্য সেনরা। ডাবলসে সাত্তিকসাইরাজ রানকিরেড্ডি ও চিরাগ শেঠি জিতলেও সিঙ্গলসে হেরে যান লক্ষ্য সেন ও আয়ূষ শেঠি। বশ মানেন হরিহরণ-অর্জুন জুটিও। এছাড়া এদিন স্কিট ও সফট টেনিস থেকে তিনটি ব্রোঞ্জ এসেছে। স্কিটে মহিলাদের দলগত বিভাগে রাইজা, মহেশ্বরী ও পারিনাজ তৃতীয় স্থান পান। আর পুরুষ বিভাগে অনন্তজিৎ, মৈরাজ ও ভাবতেগ জিতেছেন ব্রোঞ্জ। সফট টেনিসে জাপানের তাকুয়ার কাছে হেরে ব্রোঞ্জেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে ভারতের জয় মিনাকে।