


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুকুরপাড়ে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ ওঠে মাঝেমধ্যেই। কিন্তু জলাভূমিকে রক্ষা করার জন্য তার পাড় সঠিকভাবে সংরক্ষণও জরুরি। কিন্তু পাড়েই নিয়ম লঙ্ঘন করে নির্মাণ তোলার ভূরি ভূরি অভিযোগ ওঠে মূলত শহরাঞ্চলে। সেই কথা মাথায় রেখে এবার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল নবান্ন। এখন থেকে পুরসভা এলাকায় পুকুর বা জলাশয়ের পাড়ের চরিত্র বদলের আবেদন খতিয়ে দেখবে জেলাশাসকের গঠিত তিন সদস্যের কমিটি। এই মর্মে নির্দেশিকাও জারি করেছে ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তর।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পুকুর এবং পুকুরপাড়ের চরিত্র বদলের অনুমতি সাধারণত দেওয়া হয় না। একান্ত প্রয়োজনে পুকুর বোজাতে গেলে নতুন একটি জলাশয় তৈরি সহ একাধিক শর্ত পূরণ করতে হয়। জমির চরিত্র বদল (যেমন জলাভূমি থেকে বাস্তু বা পুকুরপাড় থেকে বাস্তু ইত্যাদি) হলে তবেই সেখানে কোনও নির্মাণ করা সম্ভব। ফলে পুকুরপাড়ের ভূমির চরিত্র বদলের কোনও আবেদন এলে তা বিশেষ গুরুত্ব সহকারে যাচাইয়ের প্রয়োজন থাকে। অনুমতি দেওয়া হবে কি না, খতিয়ে দেখতে বিএলএলআরও’র নেতৃত্বাধীন কমিটি গঠন করা হয়। বিডিও অফিসে নিযুক্ত কৃষি-সেচ জুনিয়র ইঞ্জিনিয়র এবং মৎস্য আধিকারিক হলেন এই কমিটির অন্য দুই সদস্য। গ্রামীণ এলাকায় এই কমিটি তৈরি করতে কোনও সমস্যা হয় না। কিন্তু পুরসভাগুলিতে বিডিও অফিসের মতো কৃষি-সেচ জুনিয়র ইঞ্জিনিয়র এবং মৎস্য আধিকারিক থাকেন না। এই পরিস্থিতিতে ঠিক হয়েছে, জেলায় নিযুক্ত ক্ষুদ্র সেচ এবং মৎস্য দপ্তরের সর্বোচ্চ আধিকারিকের সঙ্গে আলোচনা করে কমিটির বাকি দুই সদস্য কারা হবেন, তা নির্ধারণ করে দেবেন স্বয়ং জেলাশাসক।
প্রসঙ্গত, কলকাতা পুরসভার ১০১ থেকে ১৪৪ নম্বর ওয়ার্ড রয়েছে ভূমিসংস্কার দপ্তরের অধীনে। এই এলকার জন্য বিএলএলআরও’র নেতৃত্বাধীন কমিটিতে ক্ষুদ্র সেচদপ্তরের সদস্য হিসেবে থাকেন আলিপুর মহকুমায় কর্মরত জুনিয়র ইঞ্জিনিয়র (সিভিল)। তবে মৎস্য দপ্তরের তরফে কে থাকবেন, তা দপ্তরের কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক।