


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলায় বিজেপি সরকার হবেই। শনিবার দুপুরে ব্রিগেডে সূর্যের তাপে তেতেপুড়ে যাওয়া লাখো দর্শককে এহেন প্রত্যয়ী বার্তা দিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ৪৮ মিনিটের বক্তৃতায় বঙ্গবাসীকে ভয়ডরহীন হয়ে বিজেপিকে সমর্থনের আবেদন জানান। সেই সূত্রে বঙ্গে পালাবদলের পর উন্ননের পাশাপাশি তৃণমূলের অপশাসনের হিসেব নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, এ বার পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদল কেউ রুখতে পারবে না। কেউ কেউ ভয় দেখানোর চেষ্টা করবেন, কেউ কেউ বলবেন, বদল সম্ভব নয়। কিন্তু মনে রাখুন, মানুষ যখন ঠিক করে নেন, তখন ঠেকানোর কেউ থাকে না। বাংলার মানুষ যখনই ঠিক করে নেন, তখন ইতিহাস বদলে যায়। আজ ব্রিগেড দেখে সেই আত্মবিশ্বাস পাচ্ছি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এ বারের ভোট সরকার বদলের নয়, বাংলার আত্মাকে বাঁচানোর। ব্যবস্থা বদলের নির্বাচন। কাটমানি ও ভয় থেকে মুক্তির নির্বাচন।’
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে দেশজুড়ে জ্বালানি সংকট। গ্যাস সিলিন্ডারের পর্যাপ্ত জোগান না থাকায় হয়রানির শিকার আমজনতা। কিন্তু সেই সমস্যা নিয়ে এদিনের সভায় মুখে কুলুপ এঁটেছেন মোদি।
হিন্দুভোট ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তোষণের অভিযোগে প্রবল সমালোচনা শোনা গিয়েছে গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে। তিনি এদিন বলেন, বাংলাকে অসুরক্ষিত করেছে এই সরকার। এখানে খোলাখুলি ধমক দেওয়া হচ্ছে, একটি বিশেষ সম্প্রদায় আপনাদের খতম করে দেবে। সাংবিধানের কুর্সিতে বসে এমন কথা আপনার মুখে শোভা পায় না। ধমকানোই তৃণমূলের রাজনীতি। বাংলায় ভয়ের মহল বানিয়ে রাখা হচ্ছে, দুনিয়ার তা দেখা প্রয়োজন। এরা বলে তৃণমূলকে যে ভোট দেয় না, সেই বাঙালি-ই নয়! আমি তৃণমূলকে মনে করাচ্ছি, ওদের গুন্ডামির দিন এ বার শেষ হওয়ার মুখে। তৃণমূল সরকারের বিদায় নেওয়ার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। বিজেপি সরকার তৈরি হওয়ার পরে একদিকে সকলের উন্নয়ন হবে। কার্যত হুমকির সুরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চুন চুন কে হিসাব লিয়া জায়েগা। তৃণমূলের গুন্ডারা, যারা আপনাদের ভয় দেখায়, তাদের খারাপ দিন আসছে। আইনের শাসন হবে। অপরাধীদের একটাই জায়গা জেল, জেল...। মোদির কথায়, বাংলার নবনির্মাণ করবে বিজেপি। বাংলায় এখন আমাদের সরকার নেই। তাও কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে বাংলার উন্নয়নে রয়েছি আমরা। আজও ১৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন হল। এদিন আশ্চর্যজনকভাবে প্রধানমন্ত্রীর মুখে তৃণমূলনেত্রী কিংবা ভাইপো শব্দবন্ধ শোনা যায়নি। কেন্দ্রীয় সরকারের একগুচ্ছ জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের ঢালাও প্রচার করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রতিটি ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের অসহযোগিতায় সেগুলির সুবিধা থেকে বঙ্গবাসী কীভাবে বঞ্চিত হচ্ছে তার ব্যাখ্যাও দেন দেশের প্রশাসনিক প্রধান। বাংলার আইন-শৃঙ্খলা, নারী নিরাপত্তা সহ বিভিন্ন ইস্যুতে রাজ্যকে তুলোধোনা করেন মোদি। সেই সূত্রে দেশের প্রথম নাগরিক ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস নেতা-মন্ত্রীদের অপমানজনক আচরণের নিন্দা শোনা গিয়েছে মোদির মুখে। তিনি বলেন, শুধু রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেননি। ওঁরা আদিবাসীদের অপমান করেছেন। কোটি কোটি মহিলাকে অপমান করেছেন। দেশের সর্বোচ্চ পদের গরিমাকে খাটো করেছেন। ওঁরা সংবিধানের অপমান করেছেন। বাবাসাহেব আম্বেদকরকে অপমান করেছেন। এর সাজা নির্মম সরকার পাবে। কার্যত নির্বাচন কমিশনের পাশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কথা বললেই হামলা হয়। যে সংস্থা স্বতন্ত্র এবং নিরপেক্ষ ভাবে ভোট করায়, তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে ‘নাগরিকত্ব’ নিয়ে সদর্থক ঘোষণার অপেক্ষায় ব্রিগেডে এসেছিলেন মতুয়া জনগোষ্ঠীর মানুষ। এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া মতুয়াদের নাগরিকত্ব নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি বিজেপির পোস্টার বয়।