নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মাত্র এক বছরের ব্যবধান। গতবার থিমের মাধ্যমে ‘অশ্বমেধের ঘোড়া’ ছুটিয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের সহযোদ্ধা বিধান বিশ্বাস। আর এ বছর আলোই জ্বলল না নিমতা ‘জোনাকি’র কালীপুজোয়।
থিমের কালীপুজো। মাঠজুড়ে বিরাট প্যান্ডেল। সুউচ্চ কালী প্রতিমা। আলোর ঝলকানি। বড়ো রাস্তাজুড়ে আলোর নকশা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নেতাদের ছবি দেওয়া বিরাট বিরাট কাউআউট— এটাই গত কয়েকবছর দেখে এসেছেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু রাজ্যে পালাবদল হতেই প্রায় কোটি টাকার কালীপুজোটাই বন্ধ হয়ে গেল এবার! কেন পুজো করা গেল না, সেই প্রশ্নই তুলেছেন এলাকাবাসী।
উত্তর দমদম এলাকায় নিমতা ‘জোনাকি’র কালীপুজো গত কয়েক বছর ধরে নজর কেড়েছিল। এই পুজোর প্রধান কর্তা ছিলেন উত্তর দমদমের প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের প্রধান সহযোদ্ধা বিধান বিশ্বাস। বিধান ছিলেন উত্তর দমদম পুরসভার পুরপ্রধান। এবছর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সৌরভ শিকদারের কাছে পরাজিত হন চন্দ্রিমা। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর পুরসভা এলাকাতেও আমূল পরিবর্তন ঘটে। পুরপ্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেন বিধান। তারপর থেকে নিমতা এলাকায় ‘দেখা নেই’ বিধানের। এলাকার খবর, তিনি নাকি ‘ঘরবন্দি’। পার্টি অফিসে যাওয়া তো দূরঅস্ত, এলাকার চায়ের দোকানেও নাকি যান না বিধান। গত বছর ১৩ তম বর্ষে জোনাকির কালীপুজোয় থিম ছিল ‘অশ্বমেধের ঘোড়া’। কিন্তু এবার ‘ঘোড়া’, ‘হাতি’, ‘বাঘ’, ‘সিংহ’ কিছুরই আয়োজন নেই। বিগত কয়েক বছরে জোনাকির কালীপুজোর বেশ নামডাক হয়েছিল। বড়ো বাজেটের পুজো ছিল। প্যান্ডেল, প্রতিমা, আলোকসজ্জা ছিল নজরকাড়া। তাছাড়া টানা কয়েকদিন ধরে কলকাতা, মুম্বইয়ের নামকরা শিল্পীদের অনুষ্ঠান হয়েছিল। সব মিলিয়ে খরচ কোটি টাকার কাছাকাছি। বিধানের সূত্রে ধরে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সৌগত রায়রা যুক্ত ছিলেন এই কালীপুজোয়। এমনকি, এই কালীপুজোর প্রাঙ্গণেই চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ভাইফোঁটার অনুষ্ঠান করেছিলেন। কিন্তু এতবড়ো পুজো এবার বন্ধ কেন? তা নিয়ে বিস্তর গুঞ্জন এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এলাকায় এখন বিজেপির দাপট। আর বিধানের টিম ভেঙে চুরমার। ফলে উদ্যোগ নেওয়ার লোক নেই। তার উপর যদি কোনো অশান্তি হয়, সেই আশঙ্কা তো রয়েছেই!
জোনাকির কালীপুজো হতো নিমতা মাঝেরহাটি যুব সংঘের মাঠে। গত বছর কালীপুজোর সাতদিন আগে এই মাঠে প্যান্ডেলের কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়ে গিয়েছিল। এবছর এই মাঠে শুধু ঘাস গজিয়ে রয়েছে। কেন পুজো বন্ধ, তা জানতে বিধান বিশ্বাসকে একাধিক ফোন করা হলেও সেটি ‘বন্ধ’ ছিল। হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেজের উত্তর পাওয়া যায়নি।



