Bartaman Logo
৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

২৮ বছর পর বক্সির জায়গায় সভাপতি হয়ে এলেন চন্দ্রিমা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২৮ বছর পর চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে তৃণমূলের সভাপতি করেছেন। দলের সংগঠন পুনর্গঠনে নতুন পদক্ষেপ। বিস্তারিত পড়ুন।

২৮ বছর পর বক্সির জায়গায় সভাপতি হয়ে এলেন চন্দ্রিমা
  • ৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বুধবার দলের সব কমিটি ভেঙে দিয়ে সংগঠনের রাশ নিজের হাতে তুলে নিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার দু’দিনের মাথায় প্রাথমিকভাবে একটি কমিটি গড়ে দিলেন তিনি। যেখানে দেখা গিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক রাখলেও তাঁর সঙ্গে আরও দু’জনকে জুড়ে দিয়েছেন মমতা। এখন থেকে জাতীয় পর্যায়ে অভিষেককে সহযোগিতা করবেন ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেন। তৃণমূল প্রতিষ্ঠার পর থেকে এতদিন পর্যন্ত দলের রাজ্য সভাপতির পদ সামলে এসেছেন সুব্রত বক্সি। কিন্তু শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় তাঁর দায়িত্ব লাঘব করলেন মমতা। এখন থেকে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব সামলাবেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাৎপর্যপূর্ণ হল, মমতার তৈরি নয়া কমিটিতে পুরানোদেরই আধিক্য। নতুনদের জায়গা প্রায় নেই! দলীয় সূত্রে খবর, মমতা একটু ধীরে চলতে চাইছেন। তিনি দেখে নিতে চান, কারা দলের সঙ্গে আছেন। যাঁরা থাকবেন, তাঁদের নিয়েই নতুন করে সংগঠন সাজাতে চাইছেন তিনি। বজল আনবেন জেলাস্তরের সংগঠনেও। 

Advertisement

বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে গিয়েছে। জোড়াফুলের সংগঠন ভেঙে চুরমার। ‘মমতা তৃণমূল’ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে আলাদা টিম গঠন করেছেন বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের সেই ‘বিরোধী শিবির’ বা ‘প্রেসার ব্লক’-এ ৫৮ জন বিধায়ক আছেন বলে দাবি ঋতব্রতদের। এই প্রেক্ষাপটে শুক্রবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকের দিকে নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের। অনেকের ধারণা ছিল, ঋতব্রত শিবির থেকে কেউ কেউ এদিন আসতে পারেন মমতার ডাকা বৈঠকে। আগে যাঁরা জাতীয় কর্মসমিতিতে ছিলেন, এদিন মমতা তাঁদের বৈঠকে ডেকেছিলেন। সশরীরে হাজির ছিলেন ১৫ জন মতো সদস্য। আরও চারজন ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন। 
এদিনের বৈঠকে সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনে সর্বাধিক গুরুত্ব দেন মমতা। ২০২১ সালের ৫ জুন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছিল। তারপর থেকে সংগঠনের অনেকটাই দেখভাল করতেন অভিষেক। কিন্তু সদ্য বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয় এবং আইপ্যাকের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার জন্য অভিষেকের দিকেই আঙুল তুলেছেন তৃণমূল নেতারা। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার বৈঠকে মমতা ঘোষণা করেন, অভিষেক সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু সর্বভারতীয় যুগ্ম সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেন। প্রসঙ্গত, ডেরেক এবং দোলা রাজ্যসভায় দীর্ঘদিনের সাংসদ। দিল্লির রাজনীতিতে যোগাযোগও রয়েছে তাঁদের। তাই তাঁদের এই দায়িত্ব বৃদ্ধি বলে মনে করা হচ্ছে। জাতীয় মুখপাত্র হলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে তৃণমূলের সংগঠন শক্তিশালী করতে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের উপর বড়ো দায়িত্ব দিয়েছেন নেত্রী। সুব্রত 
বক্সিকে সহসভাপতি পদ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে পুলক রায়, অসীমা পাত্র, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ বিশ্বাসকে রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক পদ দিয়েছেন মমতা।
মমতার টিমে পুরানোদের গুরুত্ব বেড়েছে। কুণাল ঘোষ মুখপাত্র পদ পেয়েছেন। শ্রমিক সংগঠন দেখবেন মলয় ঘটক। হকার সংগঠন দেখবেন মদন মিত্র। মালা রায় দেখবেন 
তৃণমূলের মহিলা শাখা। কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তীকে। যুব 
সংগঠনে নেতৃত্ব বদল না ঘটালেও তৃণমূল ছাত্র পরিষদে বদল এসেছে। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন প্রিয়াঙ্কা অধিকারী। 

সম্পর্কিত সংবাদ