


সংবাদদাতা, বোলপুর: ভোটের মুখে উন্নয়নের অঙ্গীকারকে সামনে রেখে বোলপুর বিধানসভায় নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে মাঠে নেমেছে তৃণমূল। সম্প্রতি বোলপুর শহরের চৌরাস্তায় দলীয় প্রার্থী চন্দ্রনাথ সিংহ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘প্রতিজ্ঞা পত্র’ প্রকাশ করেন। সেইসঙ্গে উদ্বোধন করেন জনসাধারণের জন্য ‘প্রতিজ্ঞা স্তম্ভ’। আগামী পাঁচ বছরে এলাকার সার্বিক উন্নয়নের রূপরেখা এই প্রতিজ্ঞা পত্রে তুলে ধরা হয়েছে বলে দাবি দলের। তবে এই উদ্যোগকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। যা বিরোধীরা নিজেদের প্রচারের হাতিয়ার করতে চাইছে। যদিও এসবকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল।
তৃণমূলের প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী, ইলামবাজারে একটি আধুনিক ইনডোর স্টেডিয়াম হবে। বোলপুর স্টেডিয়ামের ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নতি করা হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে বোলপুর ও ইলামবাজারের ১২টি জুনিয়র হাই স্কুলকে পূর্ণাঙ্গ হাইস্কুলে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বোলপুরে একটি নতুন বালিকা বিদ্যালয় স্থাপনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নে ইলামবাজারে একটি নতুন বাসস্ট্যান্ড ও জয়দেব মেলা প্রাঙ্গণেও একটি বাসস্ট্যান্ডের পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবায় উন্নতির লক্ষ্যে বোলপুরের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে এই প্রতিজ্ঞা পত্রে। পাশাপাশি বোলপুর টাউন লাইব্রেরির আধুনিকীকরণের কথাও জানানো হয়েছে।
তৃণমূল প্রার্থী চন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, বোলপুর বিধানসভাকে উন্নয়নের নিরিখে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যেই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া ও বিভিন্ন পরিকাঠামোগত উন্নয়নকে সামনে রেখে একাধিক পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করা হয়েছে এই প্রতিজ্ঞা স্তম্ভে। সামনের নির্বাচনে জিতে এসব কাজ বাস্তবায়িত করা হবে বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে, তৃণমূলের এই প্রতিজ্ঞা পত্রকেই হাতিয়ার করে পাল্টা প্রচার শুরু করেছে বিজেপি ও আইএসএফ। বোলপুর শহর সহ গ্রামীণ এলাকায় তাঁরা এই প্রতিজ্ঞা পত্রকে শুধুই প্রতিশ্রুতি বলে তুলে ধরছেন।
বোলপুরের আইএসএফ প্রার্থী বাপী সোরেন বলেন, দীর্ঘদিন রাজ্যে ক্ষমতায় থেকেও উন্নয়নের গতি বাড়েনি। বরং অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়েছে। এসব ভাঁওতাবাজি ছাড়া কিছু নয়। আমরা সাধারণ মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করছি আর যেন এই ফাঁদে পা না দেন।
বিজেপির তরফেও একই সুর শোনা গিয়েছে। বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ বলেন, তৃণমূলের জমানায় আসল উন্নয়নের কাজ কিছু হয়নি শুধু নেতাদের ব্যক্তিগত উন্নয়ন হয়েছে। এবারের নির্বাচনে মানুষ বুঝে গিয়েছে বাংলার অবস্থা বেহাল। কাজেই তাঁরা আমাদের পক্ষেই সমর্থন জানাবেন।
যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিরোধীদের ভোট ছাড়া অন্য সময় এলাকায় চোখে পড়ে না। বাংলার প্রকৃত উন্নয়ন যদি করে থাকে সেটা তৃণমূল সরকারের আমলেই হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা প্রতিশ্রুতি দেন, তার বাস্তবায়ন করে দেখান।