নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: আততায়ীদের খোঁজে জোর তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। কিন্তু তদন্ত যত এগচ্ছে, ততই সামনে আসছে এক বড় সমস্যা। সিসি ক্যামেরার যথাযথ ফুটেজ না মেলায়, চন্দ্রনাথ রথ খুনের ৭২ ঘণ্টা পরেও তদন্তকারীদের হাতে নেই আততায়ীদের স্পষ্ট ছবি। নেই পালানোর রুটের নির্ভরযোগ্য ফুটেজ। কারণ, যে রাস্তা দিয়ে দুষ্কৃতীরা পালিয়েছে, সেই রুটের একাধিক সিসি ক্যামেরা দীর্ঘদিন ধরে বিকল। জানা গিয়েছে, গত বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ায় গাড়ি থামিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (তখন বিজেপি প্রার্থী) আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। তদন্তকারীদের অনুমান, হামলার পর পেয়ারাবাগান দিকের গলি রাস্তা ব্যবহার করে মোটরবাইকে চেপে দ্রুত এলাকা ছাড়ে আততায়ীরা। সেই সম্ভাব্য রুটের ফুটেজ সংগ্রহ করেই তদন্ত এগনোর কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ বহু জায়গার ক্যামেরা হয় বন্ধ, নয়তো অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, দোহারিয়া-মাঠপাড়া সংলগ্ন বেশ কয়েকটি মোড়ে লাগানো ক্যামেরা দীর্ঘদিন ধরেই খারাপ। কোথাও ক্যামেরার মুখ ঘুরে রয়েছে অন্য দিকে। কোথাও আবার ছবির মান এতটাই খারাপ যে, দ্রুতগতির কোনও বাইক বা গাড়ির নম্বর বোঝা মুশকিল। ফলে হামলার পরে আততায়ীরা কোন রাস্তা ধরে পালাল, কোথাও থামল কি না, বা মাঝপথে অন্য কারও সাহায্য পেয়েছিল কি না—সেই সব প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। তদন্তকারীদের একাংশের মতে, নজরদারির এই দুর্বলতা সম্পর্কে আগাম ধারণা ছিল দুষ্কৃতীদের। কারণ, যে রুট ব্যবহার করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, সেখানে পর্যাপ্ত সচল ক্যামেরা নেই—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে রাতের অন্ধকারে হামলা চালিয়ে দ্রুত এলাকা ছাড়তে খুব বেশি সমস্যায় পড়তে হয়নি আততায়ীদের। তদন্তকারীদের বক্তব্য, যে কয়েকটি ফুটেজ মিলেছে সেগুলিতেও মুখ বা নম্বরপ্লেট স্পষ্টভাবে ধরা পড়েনি। পুলিশ সূত্রে খবর, বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে এলাকার বিভিন্ন রুটের ফুটেজ, মোবাইল টাওয়ার লোকেশন এবং স্থানীয় সূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্তকারীদের একাংশ অবশ্য মানছেন, পালানোর সম্ভাব্য রুটে যদি সব সিসি ক্যামেরা সচল থাকত, তাহলে এতদিনে তদন্ত অনেকটাই এগিয়ে যেত।



