Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

চন্দ্রাবতী নামা

চন্দ্রাবতী নামা
  • ১৬ মে, ২০২৫ ১৬:০৫
Prefer us on Google

• চন্দ্রাবতী কবি। কবিতার পাশাপাশি পালা গানও লেখে। পূজারী ব্রাহ্মণ দ্বিজ বংশী দাস ও সুমালার একমাত্র কন্যা। ব্রাহ্মণ নিজেও পালাকার। কন্যার সৃষ্টিশীলতাকে সে পূর্ণ সমর্থন করেন। ষোড়শ শতাব্দীর প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে এক জন মহিলার কাব্য রচনা ছিল বিস্ময়কর। পারিপার্শ্বিক সমালোচনার ঝড় ও নানা সামাজিক প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে চন্দ্রাবতী নিজের কবি সত্তা থেকে সরে আসেনি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সে তার কাব্য রচনা বাঁচিয়ে রাখে।  

Advertisement

বাংলার প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতীর জীবন চরিত নিয়ে নান্দীপটের নবতম প্রযোজনা ‘চন্দ্রাবতী কথা’। নাটকটি সম্প্রতি মঞ্চস্থ হল অ্যাকাডেমিতে। উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের রচনা ও প্রকাশ ভট্টাচার্যের নির্দেশনায় এই নাটকের মধ্যে দিয়ে মধ্যযুগীয় সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক নারীর মানসিক ও সামাজিক লড়াইকে তুলে ধরা হয়েছে। চন্দ্রা তার পিতার সমর্থনে একাই সব ধরনের বিরুদ্ধাচারণের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। তার জীবনে গ্রাম্য বালক জয়ানন্দের প্রবেশ ও প্রস্থান জীবনকে অন্য ভাবে ভাবতে শেখায়। 
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নাটকটি টানটান। চন্দ্রার চরিত্রে অন্বেষা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। তাঁর অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে চন্দ্রার সমব্যথী হয়ে ওঠে দর্শক। ত্রিগুণাশঙ্করও (জয়ানন্দ) সমানতালে অভিনয় করেছেন। কোকিলার চরিত্রে শ্বেতা বাগচী মুখোপাধ্যায়ের রহস্যময়তা দারুণ ভাবে প্রকাশ পেয়েছে। ঘটকের চরিত্রে সঞ্জীব চৌধুরী অনবদ্য। মাপা অভিনয়। ঈশানজিৎ দে দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করলেও তাঁর কাজীর চরিত্রটি ছিল আকর্ষণীয়। দ্বিজ বংশীদাসের (বিপ্লব নাহা বিশ্বাস) চরিত্র নির্বাচন ছিল যথাযথ। 
এই নাটকের অন্যতম মূলধন গান। শুভদীপ গুহর সুর শ্রুতিমধুর। গানের মধ্যে ছিল বাংলা লোকগানের মেজাজ। সন্দীপ সুমন ভট্টাচার্যের মঞ্চ ও পোশাক পরিকল্পনা সময়োচিত। দীপঙ্কর দে-র আলো ও সুশ্রুত গোস্বামীর আবহ নাটককে এক সূত্রে বেঁধেছে। এই নাটকের মধ্যে দিয়ে ষোড়শ শতকের এক মহিলা কবিকে তুলে আনা হয়েছে ইতিহাসের অতল গহ্বর থেকে। যাঁর লেখনি, আবেগ, ব্যক্তি স্বাধীনতা আজও নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখায়।
তাপস কাঁড়ার 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ