গান্ধীনগর, ৪ জুলাই: জ্বর, তীব্র মাথা ব্যাথা, সঙ্গে বমি, খিঁচুনি। ভেঙে পড়ছে শরীর। এমন কি মৃত্যুও হচ্ছে। আর এর নেপথ্যে একটাই নাম, চাঁদিপুরা ভাইরাস। এর আতঙ্কেই এখন দুশ্চিন্তায় গুজরাত। এই ভাইরাসের প্রকোপে গুজরাতে এখনো পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ২২ জন।
চাঁদিপুরা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় গুজরাটের স্বাস্থ্য দফতর রাজ্যজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে স্বাস্থ্য দপ্তর বিভিন্ন জেলায় নজরদারি আরও জোরদার করেছে এবং সম্ভাব্য সংক্রমণ রুখতে একাধিক প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফুল পানশেরিয়া জানান, বিভিন্ন জেলা থেকে আসা তথ্য অনুযায়ী এই ভারাসের সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছে বাচ্চারা। বিশেষ করে ১৫ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যে এর প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা গিয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ১৮৪ জনকে সন্দেহজনকভাবে সনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ জনের শরীরে চাঁদিপুরা ভাইরাস পজিটিভ মিলেছে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, সংক্রমণের ঘটনাগুলি কোনও একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন জেলা থেকেই আক্রান্তের খবর উঠে আসছে। জেলাগুলিতে বিশেষ স্বাস্থ্য কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। সংক্রমণ রোধে কাঁচা বাড়ির দেয়ালের ফাটল বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, গবাদি পশু থাকা এলাকাগুলিতে ব্যাপক হারে কীটনাশক ছিটিয়ে ভাইরাস বহনকারী পোকামাকড় দমনের কাজ শুরু হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি সব শিশু চিকিৎসা কেন্দ্রকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, জ্বর, বমি বা খিঁচুনির মতো উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের দ্রুত আইসিইউতে ভর্তি করে অক্সিজেন ও ভেন্টিলেশনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
এই ভাইরাস সাধারণত এক প্রকার মাছির মাধ্যমে ছড়ায় বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা। বর্তমানে চাঁদিপুরা ভাইরাস ঠেকাতে কোনও নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন বা ওষুধ নেই। তাই উদ্বেগ বাড়ছে স্বাস্থ্য মহলে। রোগটির প্রতিরোধ ও চিকিৎসার নতুন উপায় খুঁজতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও গবেষকরা গবেষণা চালাচ্ছে।