


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: প্রায় দু’বছর পর আবারও শৃঙ্গ জয়ে পাড়ি দিচ্ছেন চন্দননগরের পিয়ালি বসাক। একটি নয়, এবার জোড়া শৃঙ্গ জয়ের ‘টার্গেট’ তাঁর। পারিবারিক নানা বিপত্তির কারণে গত দু’বছর তিনি অভিযানে যেতে পারেননি। পাহাড়ের হাতছানিতে সাড়া দিয়ে আবারও তিনি বেরিয়ে পড়ছেন। পিয়ালি জানিয়েছেন, এবার তিনি তিব্বতের শিশাপাঙমা এবং নেপাল-চীন সীমান্তের চো ওইয়ু শৃঙ্গ জয় করতে চান। দু’টি শৃঙ্গই আট হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার। চন্দননগরের কাঁটাপুকুরের মেয়ে এর আগে ছ’টি ‘আট হাজারি’ শৃঙ্গ জয় করেছেন। বাংলার কোনও মহিলা পর্বতারোহীর জন্য যা একটি বিরল ঘটনা। এই প্রথম অভিযানে যাওয়ার আগেই আর্থিক সংস্থান করতে পেরেছেন প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা পিয়ালি। তাই কিছুটা হলেও স্বস্তিতে আছেন তিনি। তবে এবারও তাঁকে কিছু টাকা ঋণ করতে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রোগশয্যায় থাকা বাবা প্রয়াত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে মায়েরও। গত দু’বছরে এই দুই বড় ধাক্কা সামলাতে গিয়ে বাড়ির বাইরে পা রাখতে পারেননি পিয়ালি। তাঁর কথায়, ‘ছোটবেলা থেকেই আমি যেন পাহাড়ের ডাক শুনতে পাই। ২০২৩ সালে অন্নপূর্ণা ও মাকালু পরপর জয় করেছিলাম। তারপর আর বেরতে পারিনি। আবার ৭ এপ্রিল বেরচ্ছি জোড়া পর্বতশৃঙ্গ জয়ের লক্ষ্যে। তিব্বতের শিশাপাঙমা এবং নেপাল-চীন সীমান্তের চো ওইয়ুর শিখরে দেশের পতাকা ওড়াতে চাই।’
ইতিপূর্বে এই দুই পর্বত শিখরে বাংলার কোনও মহিলা পর্বতারোহী উঠেছেন, তেমন কোনও খতিয়ান নেই। চো ওইয়ু বিশ্বের ষষ্ঠ উচ্চতম শৃঙ্গ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৮ হাজার ১৮৮ মিটার। মাউন্ট এভারেস্ট থেকে পশ্চিম দিকে প্রায় ২০কিমি দূরত্বে শৃঙ্গটির অবস্থান। এছাড়া, শিশাপাঙমা উচ্চতার নিরিখে বিশ্বের ১৩-তম শৃঙ্গ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮হাজার ২৭মিটার উঁচু। তিব্বতের লোককথার গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই পর্বত। পর্বতারোহীরা মনে করেন, শিশাপাঙমা শৃঙ্গ আরোহণের পথ বেশ কিছুটা দুর্গম। তবে এক্ষেত্রেও পিয়ালির পরিকল্পনা, দু’টি শৃঙ্গই তিনি অক্সিজেন ছাড়াই জয় করবেন। বিশ্বের সর্বোচ্চ শিখর মাউন্ট এভারেস্টে তিনি অক্সিজেন ছাড়াই উঠেছিলেন। তবে ২০২২ সালে চো ওইয়ু আরোহণে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি। তাই এবার নব উদ্যমে জোড়া শৃঙ্গ জয়ের চ্যালেঞ্জ জিতে নিতে কোমর বাঁধছেন তিনি। অভিযানে রওনা দেওয়ার আগে সাংবাদিক বৈঠক করছেন পিয়ালি।-নিজস্ব চিত্র