নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলির চন্দননগরের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিহার থেকে উদ্ধার করে আনল পুলিশ। ওই ছাত্রী প্রেমের টানে বিহারে পাড়ি দিয়েছিল। প্রেমিকের বাড়ি থেকে প্রায় বন্দি অবস্থায় ওই ছাত্রীকে পুলিশ উদ্ধার করে। তবে তার ভিনরাজ্যের প্রেমিক গা ঢাকা দিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পিতৃ-মাতৃহীন ওই কিশোরী চন্দননগরে মামার বাড়িতে থাকত। চুঁচুড়ার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে সে পড়াশোনা করে। সমাজমাধ্যমে তার সঙ্গে বিহারের যুবকের আলাপ হয়েছিল। তারপরেই প্রেমের সূত্রপাত। গত ১২ সেপ্টেম্বর স্কুলের একটি অনুষ্ঠানে যাচ্ছে বলে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেনি।
ওই কিশোরীর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণত সে স্কুলবাসে করেই স্কুলে যেত। কিন্তু সেদিন সে বাড়ি থেকে কিছু টাকা নিয়ে গিয়েছিল। বলেছিল, অটো বা টোটোয় করে স্কুলে যাবে। তখন বিষয়টিতে খটকা না লাগলেও সন্ধ্যার পরেও সে বাড়ি না ফেরায় সন্দেহ হয়। তারপরেই পুলিশে নিখোঁজ ডায়েরি করে পরিবার। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নাবালিকা বাড়ি থেকে বেরিয়ে ট্রেন ধরে বিহারে চলে গিয়েছিল। বাড়ি থেকে বের হওয়ার কিছু পরেই সে ফোন সুইচড অফ করে দেয়। নানা সূত্র ধরে পুলিশ বিহারের নালন্দার এক যুবকের সন্ধায় পায়। তারপরেই পুলিশের একটি দল বিহারে পাড়ি দেয়।
জানা গিয়েছে, নালন্দার একটি বাড়িতে ছাত্রীকে কার্যত বন্দি করে রাখা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, নালন্দায় পৌঁছে যাওয়ার পরেই হয়তো প্রেমিকের উদ্দেশ্য টের পায় কিশোরী। তখনই সে বাড়ি ফিরে আসার চেষ্টা করে। তা রুখে দিতেই তাকে বন্দি করা হয়েছিল। তবে ঘটনা যাই হোক, পিতৃ-মাতৃহীন ভাগ্নিকে ফিরে পেয়ে স্বস্তির শ্বাস ফেলেছে চন্দননগরের ওই পরিবার।