নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চলে গেল আরও একটা ২৯ মে। ১৯৫৩ সালের এই মে মাসের ২৯ তারিখের ঘটনা। গোটা বিশ্বকে অবাক করে সেদিন প্রথম পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গটি জয় করলেন এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগে। তৈরি হল ইতিহাস। সেই এভারেস্ট যে পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গ, তা ১০০ বছর আগে প্রমাণ করে গিয়েছিলেন এক বাঙালি। তিনি রাধানাথ শিকদার। তাঁর গড়ে দিয়ে যাওয়া ইতিহাসে ভর করে প্রতিবছর শয়ে শয়ে পর্বতারোহী পা রাখেন তুষারাবৃত ‘সাগরমাথা’য়। তাঁর কথা কি কারও এখন স্মরণে আছে? চন্দননগরের অলিগলি ঘুরলে সেই প্রশ্নই বারবার ঘুরেফিরে আসে। প্রতিষ্ঠিত তথ্য অনুযায়ী, রাধানাথ শেষ জীবন কাটিয়েছিলেন চন্দননগরে। এখানেই তিনি মারা যান। তারপর...? সাধারণ মানুষ হিসেবে আপনার উত্তর হতেই পারে, তাঁকে দাহ করা হয়। কিন্তু এখানেই ইতিহাসের কয়েকটি সূত্র বলছে, রাধানাথ শেষজীবনে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষা নিয়েছিলেন। তাই তাঁকে দাহ করা হয়নি। কবর দেওয়া হয়েছিল। কোথায় কবর দেওয়া হয়েছিল? চন্দননগরে? সাধারণ মানুষের অধিকাংশই নিশ্চিতভাবে এ বিষয়ে কিছু বলতে পারেন না।
কেউ বলেন, চন্দননগরের লালদিঘির ধারে ‘সেক্রেড হার্ট সিমেট্রি’তে কবর দেওয়া হয়েছিল রাধানাথকে। যদিও যে কবরস্থানে রাধানাথবাবু শায়িত আছেন বলে উল্লেখ, সেখানে সরকারিভাবে ইতিহাসের প্রমাণ সহ কোনও ‘ফলক’ কেউ কোনওদিন দেখেননি। ফলে এখানেই বিতর্ক জন্ম নেয়। চার বছর আগে পর্বতারোহীদের একটি সংগঠন দাবি করে, এখানেই রাধানাথের কবর রয়েছে। সেখানে তারা একটি স্মৃতিফলকও স্থাপন করে। কিন্তু রাধানাথের সমাধি নিয়ে ধোঁয়াশা তাতে কাটেনি। চন্দননগরের বাসিন্দা লেখক ওই পর্বতারোহী সংগঠনের শুভানুধ্যায়ী রজত চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা কিছু তথ্যপ্রমাণ পেয়েছিলাম। আমাদের মনে হয়েছে, এটিই রাধানাথের সমাধি। তবে যে কোনও ইতিবাচক বিতর্ককে স্বাগত।’ আর চন্দননগরের মেয়র রাম চক্রবর্তী বলেন, ‘ঐতিহাসিক সত্যের চেয়ে মানুষের আবেগ কখনও কখনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। রাধানাথবাবুকে নিয়ে আমাদের অনুভূতি সেরকম। রাধানাথবাবু যদি এখানেই শায়িত থাকেন, তবে আমরা গর্বিত।’ তবে এ সম্পর্কে নির্দিষ্ট এবং ইতিহাসলব্ধ প্রমাণ থাকার বিষয়ে তিনি নিশ্চিতভাবে কিছু জানাতে পারেননি। কারণ সরকারিভাবে কোথাও রাধানাথ শিকদারের কবর কোথায়, তার কোনও প্রামাণ্য নথি নেই। এমনকী ইতিহাসের কোনও লেখাতে সে বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে অনেকের দাবি। ফলে চন্দননগরেই তাঁর যে শেষ চিহ্ন রয়েছে বলে দাবি একাংশের তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।