Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভাষা বিতর্কের মাঝে বাঙালির চেতনাকে উদ্দীপিত করবে চালতাবাগান সর্বজনীন

বাংলা বললেই বাংলাদেশি! বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্যে এটাই ট্রেন্ড। শুধুমাত্র মাতৃভাষায় কথা বলায় তুলে নিয়ে গিয়ে হেনস্তা করছে পুলিস।

ভাষা বিতর্কের মাঝে বাঙালির চেতনাকে উদ্দীপিত করবে চালতাবাগান সর্বজনীন
  • ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুদীপ্ত সেন, কলকাতা: বাংলা বললেই বাংলাদেশি! বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্যে এটাই ট্রেন্ড। শুধুমাত্র মাতৃভাষায় কথা বলায় তুলে নিয়ে গিয়ে হেনস্তা করছে পুলিস। এই নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারের দুর্গাপুজোও হয়ে উঠছে অবিচারের প্রতিবাদ মঞ্চ। এই আবহে ডি এল রায় স্ট্রিটের চালতাবাগান সর্বজনীনের এবারের থিম—‘আমি বাংলায় বলছি’। ভাষা বিতর্কে সরাসরি জুড়তে না চাইলেও তাদের বিষয় ভাবনা বর্তমান পরিস্থিতিতে অবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ। উদ্যোক্তাদের মতে, ভাষা হিসেবে বাংলার অতীত ঐতিহ্য, বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা তুলে ধরা হচ্ছে। স্থান পাচ্ছে চর্যাপদ থেকে শুরু করে সহজ পাঠ, বর্ণপরিচয়, ধারাপাত। সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে সাম্প্রতিক সাহিত্যিকদের অবদান তুলে ধরা হবে মণ্ডপসজ্জায়। সরাসরি প্রতিবাদে নাম না লেখালেও বাঙালির ভাষা চেতনাকে আরও একবার উদ্দীপিত করতে মরিয়া উদ্যোক্তারা। 

Advertisement

সিমলায় স্বামীজির পৈতৃক ভিটে থেকে চাররাস্তার মোড়ের দিকে এগলেই বাঁ দিকে বিবেকানন্দ রোড। সেই রাস্তা ধরে খানিকটা এগলেই ডি এল রায় স্ট্রিটের উপর চালতাবাগান সর্বজনীনের পুজো। এবার মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বে শিল্পী প্রদীপ্ত কর্মকার। তিনি বলছিলেন, ‘অনেকেই মাতৃভাষায় কথা বলতে কুণ্ঠা বোধ করেন। অন্যরাও সেই সুযোগ নিচ্ছে। কিন্তু, ভাষা আমাদের অহংকার। অলঙ্কারও বটে। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাতৃভাষায় কথা বলা উচিত। তাহলে অন্য কেউ অবজ্ঞার সুযোগ পাবে না।’ কীভাবে সেজে উঠছে মণ্ডপ? শিল্পীর কথায়, বাংলা ভাষার উৎপত্তি থেকে শুরু করে ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনকে তুলে ধরা হচ্ছে। ফের একবার ছোটবেলাকে ছুঁয়ে দেখার সুযোগ পাবেন দর্শনার্থীরা। আমাদের ভাষা শিক্ষার শুরু ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সহজ পাঠের মাধ্যমে। মণ্ডপের অন্দরে দুই মহামূল্যবান পুঁথিকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। এরসঙ্গে বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলা ভাষা নিয়ে ভাবনাচিন্তাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভাবনা তুলে ধরা হবে লাইভ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে। হাজির থাকবেন হীরক রাজা ও গবেষক। তাঁরা সরাসরি কথা বলবেন দর্শনার্থীদের সঙ্গে। উঠে আসবে মাতৃভাষার নানা দিক। এরপরই কালো দেওয়ালে ফুটে ওঠা বর্ণের ছটা দেখতে দেখতে দর্শক এসে পৌঁছবেন ঠাকুরঘরে। সেখানে বাংলাভাষার মুকুটে যুক্ত হওয়া অসংখ্যা পালককে নিয়ে তৈরি হচ্ছে এক অনন্য শিল্পকলা। প্রদীপ্তবাবু জানিয়েছেন, ‘আবহে স্থান পাবে প্রয়াত প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের কালজয়ী —‘আমি বাংলায় গান গাই’। শারদোৎসবের আবহে বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নন্দলাল বসু থেকে শুরু করে প্রতুলবাবুকে বিশেষভাবে শ্রদ্ধা জানানো হবে।  
ডি এল রায় স্ট্রীটের শারদোৎসবের সাধারণ সম্পাদক মৌসম মুখোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, এবার আমাদের পুজো ৮১ বছরে পদার্পণ করল। গত নভেম্বর মাসেই এবারের থিম ঠিক করে ফেলেছিলাম। কিন্তু, বর্তমান পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিতে বিষয়টি আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। এবার প্রতিমা তৈরি করছেন শিল্পী অভিষেক ভট্টাচার্য। আলোর দায়িত্বে সৌমেন হালদার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ