নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও বারাকপুর: দলের নির্দেশমতো শুক্রবার দুপুরে বারাসত পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন অশনি মুখোপাধ্যায়। এদিন তিনি পদত্যাগপত্র তুলে দেন পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান তাপস দাশগুপ্তের হাতে। এবার পুর চেয়ারম্যান হচ্ছেন সুনীল মুখোপাধ্যায়। তিনি এই পুরসভারই প্রাক্তন চেয়ারম্যান। অদূরেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে ‘মাস্টারমশাইয়ের’ হাতে ধরে পুরসভায় দলের ক্ষত সারাবার ব্যাপারে আশাবাদী কর্মীরা। ইতিমধ্যে অশনিবাবু মহকুমা শাসকের কাছে তাঁর ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন।
এদিন দুপুরেই পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলাররা মধ্যমগ্রামের তৃণমূল পার্টি অফিসে যান। সেখানে বৈঠক করেন বারাসত সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বৈঠক শেষে সাংসদ কাকলিদেবী বলেন, ‘অশনি মুখোপাধ্যায় ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছেন। তাঁর পদত্যাগপত্র গৃহীতও হয়েছে।’
মধ্যমগ্রামের বৈঠকের পর কাউন্সিলাররা ফের বারাসত পুরসভায় যান। সেখানে কাউন্সিলারদের বোর্ড মিটিংয়ে অশনিসহ বেশ কয়েকজন কাউন্সিলার অনুপস্থিত ছিলেন। কাউন্সিলার হিসেবে পুর বোর্ড মিটিংয়ে গরহাজির সুনীলবাবুকে চেয়ারম্যান করা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করেও সুনীলবাবুর জবাব মেলেনি। তবে অশনিবাবুর প্রতিক্রিয়া, ‘দলের নির্দেশেই আমি চেয়ারম্যান পদে ইস্তফা দিয়েছি।’
অন্যদিকে, শুক্রবার উত্তর বারাকপুর পুরসভার ভাইস চেয়ারপার্সন হলেন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার শ্রীপর্ণা রায়। এদিন পুরসভার বোর্ড অফ কাউন্সিলার্সের বৈঠকে তাঁর নাম প্রস্তাব করেন চেয়ারম্যান মলয় ঘোষ। শ্রীপর্ণা রায়ের নাম সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এরপর চেয়ারম্যানই তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করান। দায়িত্ব নিয়ে শ্রীপর্ণা বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিটি কর্মসূচি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই হবে আমার প্রধান কাজ।’
মলয় ঘোষ বলেন, ‘নতুন মুখ। অভিভাবক হিসেবে প্রয়োজনীয় সাহায্য তাঁকে করব।’ পুরকর্মী, আধিকারিক এবং দলীয় কর্মীরাও পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রীপর্ণাকে শুভেচ্ছা জানান। উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী ভাইস চেয়ারম্যান সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে পদটি একবছর খালি ছিল। শুক্রবার সেই শূন্যস্থান পূরণ করলেন শ্রীপর্ণা রায়।