চেন্নাই: এবারের আইপিএলে প্রথম হ্যাটট্রিক করলেন যুজবেন্দ্র চাহাল। পাঞ্জাব কিংসের লেগস্পিনার বুধবার চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে একই ওভারে ঝুলিতে ভরলেন চারটি শিকার। এর আগে আইপিএলে হলুদ জার্সির বিরুদ্ধে কোনও বোলারের হ্যাটট্রিক ছিল না। সেই ধারা ভাঙলেন চাহালই। তাঁর এই দুরন্ত হ্যাটট্রিকের পর ব্যাট হাতে শ্রেয়স আয়ারের অধিনায়কোচিক ইনিংসে ভর করে চেন্নাইকে ৪ উইকেটে হারাল পাঞ্জাব। এদিন ঘরের মাঠে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৯০ রানে আল-আউট হয় সিএসকে। স্যাম কারান ৮৮ রানের ইনিংস খেললেও, বাকিরা তাঁকে সঙ্গ দিতে ব্যর্থ। জবাবে ১৯.৪ ওভারে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাঞ্জাব (১৯৪-৪)। ৪১ বলে ৭২ করেন শ্রেয়স। এছাড়া হাফ-সেঞ্চুরি হাঁকান প্রভসিমরণ সিং (৫৪)। এই হারের ফলে চলতি আইপিএলে প্লে-অফের আশা শেষ হয়ে গেল ধোনিদের। আর জিতে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল পাঞ্জাব (১০ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট)।
এদিন টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি চেন্নাইয়ের। তবে স্যাম কারানের দুরন্ত ইনিংসে ভর করে দুশোর গণ্ডি টপকে যাওয়ার আশা জাগিয়েছিল ধোনি-ব্রিগেড। কিন্তু চাহালের চার উইকেটই তার আগে আটকে রাখে চেন্নাইকে। ১৯.২ ওভারে ১৯০ রানে দাঁড়ি পড়ে ইনিংসে। এই নিয়ে টানা দুটো ম্যাচে ২০ ওভার খেলতে পারল না চেন্নাই। আইপিএলের ইতিহাসে যা কখনও হয়নি।
অথচ, স্যাম কারান যেভাবে খেলছিলেন, তাতে মনে হচ্ছিল অন্তত ২১০-২১৫ রানে পৌঁছবে সিএসকে। দুই ওপেনার শাইক রশিদ (১১) ও আয়ূশ মাতরে (৭) ফেরার পর তিনিই টানলেন দলকে। রান পাননি রবীন্দ্র জাদেজাও (১৭)। চতুর্থ উইকেটে ডিওয়াল্ড ব্রেভিসকে সঙ্গে নিয়ে ৫০ বলে ৭৮ যোগ করেন স্যাম। ব্রেভিস (৩২) ফেরার পরও ইংরেজ অলরাউন্ডারকে অপ্রতিরোধ্য লাগছিল। ৪৭ বলে তাঁর ৮৮ রানের ইনিংসে রয়েছে চারটি ছক্কা ও ন’টি চার। এরপরই নামে ধস। ধোনি চার বলে ১১ করে শিকার হন চাহালের। হুদা (২), কম্বোজ (০) ও নূর (০) ফেরেন পরপর। শেষ ওভারে শিবম দুবে (৬) উইকেট দেন অর্শদীপ সিংকে। চাহাল ছাড়া বল হাতে সফল পাঞ্জাবের অর্শদীপ (২-২৫) ও জানসেন (২-৩০)।
১৯১ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই করে পাঞ্জাবের দুই ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য (২৩) ও প্রভসিমরন। এরপর দলের হাল ধরেন শ্রেয়স। তাঁর ৪১ বলে ৭২ রনের ইনিংস সাজানো ছিল পাঁচটি চার ও চারটি ছক্কায়। একটা সময় মনে হয়েছিল, সহজেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছবে পাঞ্জাব। তবে শ্রেয়সরা উইকেট ছুঁড়ে আশায় খেলা গড়ায় শেষ ওভারে। শেষ পর্যন্ত ইংলিস (অপরাজিত ৬) ও জানসেন (অপরাজিত ৪) দলকে জয় এনে দেন।