নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জঞ্জাল সাফাইয়ের কাজে বুধবার থেকে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা। পুর কর্তৃপক্ষের দাবি, হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগ জানানোর চার ঘণ্টার মধ্যে সাফ করা হচ্ছে জঞ্জাল। বুধবার অভিযান শুরুর প্রথম দিনেই অভিযোগে পাহাড়। মোট ১০০ অভিযোগ জমা পড়েছে এদিন। অর্থাৎ ওপেন করতে নেমেই ‘সেঞ্চুরি’।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আগে এক সপ্তাহব্যাপী এই বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে কলকাতা পুরসভা। শহরকে আরও পরিচ্ছন্ন রাখতেই এই অভিযান বলে জানান কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। এই বিভাগের মেয়র পরিষদ সদস্য দেবব্রত মজুমদার জানান, অভিযান চলবে তিন জুন পর্যন্ত। পুরসভা সূত্রে খবর, এর মূল উদ্দেশ্য, এখনও পর্যন্ত শহরের যে আবর্জনাময় এলাকাগুলি রয়েছে তা চিহ্নিত করা। ওই জায়গা পরিচ্ছন্ন করা। অভিযোগ গ্রহণের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর (৯০৭৩৩৬৭৮৮৩) দেওয়া হয়েছে। সমস্ত অভিযোগ ‘রিয়েল টাইম গুগল ফর্ম’ ও ‘ড্যাস বোর্ড’ ব্যবহার করে যাচাই করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, এদিন ওয়ার্ডভিত্তিক সর্বোচ্চ পাঁচ জায়গা থেকে বেশি অভিযোগ এসেছে। শীর্ষে রয়েছে কলকাতার পুর এলাকার অন্তর্গত দমদমের দু’নম্বর ওয়ার্ড। পাঁচটি অভিযোগ এসেছে সেখান থেকে। এছাড়া ৫৮, ৫৯, ৯১ এবং ১২৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকেও এসেছে একাধিক অভিযোগ। তবে এর মধ্যে বেশ কিছু অভিযোগ কলকাতা পুরসভা এলাকা থেকে আসেনি। এবং কিছু অভিযোগ জঞ্জাল সাফাই সংক্রান্ত নয়। সেগুলি রেজিস্টার করা হয়নি। পুরসভার জঞ্জাল সাফাই এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, সকাল ছ’টা থেকে সন্ধ্যা ছ’টা পর্যন্ত ৯১টি অভিযোগ রেজিস্টার করা হয়েছে। সন্ধ্যা ছ’টার মধ্যে ১৯টি অভিযোগের নিষ্পত্তি অর্থাৎ জঞ্জাল সাফ করা হয়েছে। রাত আটটা পর্যন্ত চলেছে জঞ্জাল সাফাই করার কাজ।
মেয়র জানান, আপাতত এক সপ্তাহের জন্য এই ব্যবস্থা চালু থাকবে। পরবর্তীকালে চলবে কি না এক সপ্তাহ পর অভিযানের সামগ্রিক রিপোর্টের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশেষ অভিযান চলবে প্রতিদিন সকাল ছ’টা থেকে সন্ধ্যা ছ’টা পর্যন্ত। ১৪৪টি ওয়ার্ডের যেখানে যেখানে জঞ্জাল পড়ে থাকবে নাগরিকদের তার ছবি এবং ভিডিও হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর আবেদন করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে জায়গার নাম-ঠিকানা উল্লেখ করতেও বলা হচ্ছে।
পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরসভার কেন্দ্রীয় ভবন সর্বোচ্চ দু’ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট বরোর কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশ পাঠিয়ে দিচ্ছে। আর তারপর সর্বোচ্চ দু’ঘণ্টার মধ্যে সাফাই কাজ করে অভিযোগকারীকে ফিড ব্যাক পাঠিয়ে দিচ্ছে। এই কাজের জন্য পুরসভার ডিজিটাল সিস্টেম লগ-ইন করার পাশাপাশি একটি টিকিট নম্বরও তৈরি করা হবে।