নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার দেশে ধান-গমের বাম্পার ফলনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ভাণ্ডারে রেকর্ড পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুত হয়েছে। জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের জন্য আগামী দিনের চাহিদা মেটানোর পর প্রচুর চাল-গম থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। এই পরিস্থিতিতে খুব শীঘ্রই ফের ওপেন মার্কেট সেলের মাধ্যমে (ওএমএস) বাজার দরের থেকে কমে চাল-গম বিক্রয় শুরু করবে কেন্দ্র। কিন্তু এবারও রাজ্য সরকারগুলির কাছে তা বেচা হবে না। এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছে কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রক। কয়েকটি কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থার পাশাপাশি বড় ব্যবসায়ীদের কাছে নিলাম ডেকেই তা বেচা হবে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের তরফে রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠন অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলারস ফেডারেশনকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, ‘ভারত’ ব্রান্ড নামে প্যাকেটে ভরা চাল-আটা নাফেড, এনসিসিএফ এবং কেন্দ্রীয় ভাণ্ডারের মতো সরকারি সংস্থার নিজস্ব স্থায়ী ও ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে বেচা হবে। তা বিক্রয় হবে ই-কমার্স ও বড় রিটেল চেনের মাধ্যমেও। রেশনে গ্রাহকদের জন্য যে চাল-গম দেওয়া হয় তার বাইরে ওই জাতীয় কোনও খাদ্যশস্য সেখানে বিক্রির জন্য রাজ্য সরকারের মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে না। এটা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অনেক আগেই।
রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠন অনেক আগেই রেশন দোকান থেকে ভারত ব্রান্ডের চাল-আটা বিক্রিতে আগ্রহ দেখালেও তা পায়নি। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার নীতিগতভাবে এই ব্যাপারে আগে রাজিই হয়েছিল। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানান, নাফেডের কাছে থেকে প্যাকেটের চাল ও আটা যাতে পাওয়া যায় তার চেষ্টা এখনও চলছে। এসব খোলা বাজারের চেয়ে সস্তাই হবে। তাতে অগ্নিমূল্যের বাজারে সুবিধা হবে সাধারণ মানুষের। এদিকে, রাজ্য সরকারও তার নিজস্ব খাদ্য সুরক্ষা যোজনার অন্তর্গত রেশন গ্রাহকদের জন্য ওএমএসের মাধ্যমে গম কিনতে বিশেষভাবে আগ্রহী। কেন্দ্র এই ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজ্যগুলিকে গম বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে রাজ্য প্রকল্পের আওতাভুক্ত গ্রাহকরা গম-আটা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আগামী দিনেও এই গ্রাহকদের গম-আটা পাওয়ার আশা কম।