নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রেশনে বিক্রি হওয়া কেরোসিনের দাম বৃদ্ধি নিয়ে কি দ্বিধায় ভুগছে কেন্দ্রীয় সরকার? গত সেপ্টেম্বর মাসে কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রক থেকে সব রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, মাসে সর্বাধিক ১০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানো যাবে। তবে দাম বাড়ানোর আগে পেট্রলিয়াম মন্ত্রককে তা জানাতে হবে। এই চিঠি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি নাগাদ কেরোসিনের দাম বাড়িয়ে দেয় তেল সংস্থাগুলি। পশ্চিমবঙ্গে ডিলারদের বিক্রয়মূল্য লিটারে ৬ টাকা করে বেড়ে ৭০ টাকা হয়। এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি পেট্রলিয়াম মন্ত্রক থেকে ফের একটি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তাতে বলা হয়েছে, আপাতত কেরোসিনের দামের কোনো পরিবর্তন করতে হবে না। সেপ্টেম্বর মাসের নির্দেশিকা আপাতত স্থগিত থাকবে। সেই মতো নভেম্বর মাসে কেরোসিনের ইস্যু প্রাইস তেল সংস্থাগুলি অপরিবর্তিত রেখেছে। ফলে চলতি মাসে পশ্চিমবঙ্গসহ কোনো রাজ্যেই কেরোসিনের দাম বাড়ছে না। তেল সংস্থাগুলির ইস্যু প্রাইসের ভিত্তিতে রাজ্য খাদ্যদপ্তর প্রতি মাসে রেশনে কেরোসিনের খুচরো বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে। সেই বিজ্ঞপ্তি দু-একদিনের মধ্যে জারি করবে খাদ্যদপ্তর। অক্টোবর মাসের শুরুতেই একটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা কেরোসিনের ইস্যু প্রাইস বাড়িয়েছিল। কিন্তু তার আগে রাজ্য সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে অক্টোবরে পুজোর মাসে কেরোসিনের দাম যাতে না বাড়ে, তার জন্য কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের কাছে অনুরোধ করা হয়। মন্ত্রক থেকে বার্তা পাওয়ার পর বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করে নেয় ওই তেল সংস্থা।
এখন প্রশ্ন হল, কেরোসিনের দাম বাড়ানোর প্রশ্নে কেন্দ্রীয় সরকার কেন সমস্যায় পড়েছে? এই দাম বাড়ানোর জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি বেশ কিছুদিন ধরে পেট্রলিয়াম মন্ত্রককে অনুরোধ ককে আসছিল। সংস্থাগুলির বক্তব্য, কেরোসিনে তাদের প্রচুর লোকসান হচ্ছে। তাই দাম বাড়ানোর অনুমতি দেওয়া হোক। সেই লোকসানে রাশ টানতে পর্যায়ক্রমে দাম বাড়ানোর অনুমতি দেয় মন্ত্রক। লোকসান বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এভাবে দাম বাড়ানো যাবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের পর কিছু প্রশ্ন ওঠে। বিভিন্ন মহল থেকে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম প্রচুর বাড়লেও পেট্রল-ডিজেলের দাম স্থিতিশীল রাখা হয়েছে। সেখানে শুধু গরিবের রান্নার জ্বালানি কেরোসিনের দাম বাড়বে কেন? এনিয়ে অস্বস্তিতে পড়ে কেন্দ্র। বিষয়টি যাতে বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন কোনো রাজনৈতিক ইস্যু না হয়ে ওঠে, তার জন্যই আপাতত দাম বাড়ানোর পথ থেকে কেন্দ্র সরে এল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।



