নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও নয়াদিল্লি: ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে চালু হয়েছে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা। প্রকল্পটি চলার কথা ২০২৮ সালের মার্চ পর্যন্ত। পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এই প্রকল্পটি রাজ্যে চালু না করায়, সুবিধাভোগীর সংখ্যার নিরিখে তলানিতে বাংলা। নতুন সরকার আসার পর, ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষের মধ্যে অন্তত ২ লক্ষ মানুষকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করল কেন্দ্র।
নয়া সরকার ক্ষমতায় এসে মে মাসে পিএম বিশ্বকর্মায় নাম নথিভুক্তির উদ্যোগ নেয়। এখনও পর্যন্ত ৩ হাজার ব্যক্তি এই প্রকল্পে সফলভাবে নাম লেখাতে পেরেছেন। এবছরের পিএম বিশ্বকর্মা কর্মসূচির তৃতীয় বর্ষ উদযাপনে তাই কলকাতাকেই বেছে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আজ, ১৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠান সূচি রয়েছে এমএসএমই মন্ত্রকের। সেখানে স্বীকৃতি পাবেন কর্মসূচির আওতাভুক্ত শ্রমিক, শিল্পীরা। বুধবার এক বিবৃতিতে একথা জানিয়েছে এমএসএমই মন্ত্রক। আজ অনুষ্ঠানে থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। প্রসঙ্গত, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৮টি ক্ষেত্রের কারিগররা প্রশিক্ষণ, কাজের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং সহজ শর্ত ও কম সুদে ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে পারেন।
বুধবার এমএসএমই মন্ত্রকের কর্তারা জানিয়েছেন, মোট তিন দফায় আবেদন যাচাইয়ের পর প্রকল্পের আওতায় আসা যায়। এরাজ্যে ইতিমধ্যেই ৩৬ হাজার ৬৫০ জন নাম নথিভুক্ত করেছেন। তাঁদের মধ্যে ২৮ হাজার ৭৯৯টি আবেদন এসেছে গ্রামীণ এলাকা থেকে। ৩,৩৩৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ২,৯০৭টিতে এই প্রকল্পের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। গোটা দেশে এই প্রকল্পে এখনও পর্যন্ত ৩০ লক্ষ মানুষের নাম নথিভুক্ত হলেও ট্রেনিং পর্ব শেষ হয়েছে প্রায় সাড়ে ২৪ লক্ষের। তাঁদের মধ্যে ব্যাংক ঋণ নিয়েছেন ৬ লক্ষ ১৮ হাজার ব্যক্তি।
এমএসএমই মন্ত্রকের কর্তাদের কথায়, এই প্রকল্পে নাম লেখালে, তাঁদের ঋণ নিতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আগ্রহীরাই তা নিতে পারেন। তবে যাঁরা ঋণের জন্য আবেদন করবেন, তাঁদের আবেদন ব্যাংক ম্যানেজারের তরফে বাতিল করা যাবে না। সেই ক্ষমতা তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হাতে থাকবে। ঋণের জন্য আবেদনকারীকে কোনো কো-ল্যাটারাল বা সম্পদ জমা রাখতে হবে না। গ্রাহকের সিবিল স্কোর খারাপ থাকলেও এক্ষেত্রে ঋণ পেতে সমস্যা হবে না।