


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খাদ্যশস্য কেনার কেন্দ্রীয় নীতি রাজ্যে পুরোপুরি কার্যকর করা হয় না। কেন্দ্রের অসহযোগিতাকেই এজন্য দায়ী করছে সংশ্লিষ্ট মহল। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বাংলার চাষিরা। কারণ এটা করা হলে সরকারি উদ্যোগে চাষিদের কাছ থেকে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে (এমএসপি) আরও বেশি পরিমাণে ধান কেনা সম্ভব হত। এমএসপি প্রায় সবসময় খোলাবাজারের ধানের দামের চেয়ে বেশি হয়। তাই সরকারের কাছে ধান বেচলে চাষিরা লাভবান হন।
পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের ১৭টি রাজ্যে সরকারি উদ্যোগে ধান কেনার প্রক্রিয়াটি বহুবছর যাবৎ বিকেন্দ্রিত। এই ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রয়োজনীয় চালের জন্য ধান কেনা ও চাল উৎপাদনের দায়িত্ব বর্তায় রাজ্য সরকারগুলির উপর। কেন্দ্রের হয়ে ধান কিনে চাল তৈরির খরচ প্রথমে রাজ্যকেই করতে হয়। রাজ্যগুলি পরে সেই হিসাব দিলে কেন্দ্র ওই টাকা দফায় দফায় মিটিয়ে দেয়। কেন্দ্রীয় খাদ্যশস্য ক্রয় নীতিতে বলা আছে, কোনো রাজ্য কেন্দ্রের চাহিদার অতিরিক্ত শস্য কিনলে এফসিআই তা নিয়ে নেবে। রাজ্যকে তার জন্য কেন্দ্রীয় হারে টাকা মেটাবে এফসিআই।
কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার এফসিআইয়ের কাছে কখনো চাল সরবরাহ করতে পারেনি। যদিও পশ্চিমবঙ্গেই দেশের মধ্যে সর্বাধিক ধান হয়। খাদ্যদপ্তর সূত্রে বলা হয়েছে, এরাজ্যে প্রতিবছরই এফসিআইকে চাষির কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনতে বলা হয়। কিন্তু সেভাবে তা করা হয়নি। কখনোসখনো খুব কমই তা কেনা হয়। এই ব্যাপারে এফসিআইয়ের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গ বিকেন্দ্রিত রাজ্য। তাই এখানে ধান কেনার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। রাজ্য সরকার কেন আরও বেশি পরিমাণে ধান কিনে চাল তৈরি করে এফসিআইকে দেয় না? তাহলে ওই কেন্দ্রীয় সংস্থা সেই চাল অন্য রাজ্যে পাঠাতে পারত। রাজ্য খাদ্যদপ্তর এবং রাইস মিল মালিকদের তরফে বলা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় নীতির জন্যই এটা করা যায় না। কারণ এফসিআইকে চাল দিলেও তার জন্য কোনো অগ্রিম টাকা রাজ্যকে দেওয়া হবে না। রাজ্য প্রথমে নিজের টাকায় ধান কিনে চাল তৈরি করে এফসিআইকে দেবে। তারপর টাকা মেটাবে এফসিআই! এমনিতেই কেন্দ্রের জন্য সেন্ট্রাল পুলে সরবরাহ এবং নিজস্ব খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্প চালু রাখতে রাজ্যকে বিপুল অর্থ খরচ করতে হয়। সেন্ট্রাল পুলের চাল বাবদ কেন্দ্রের কাছে বিপুল পরিমাণ টাকা দীর্ঘদিন ধরে পাওনা থাকে। তার উপর এফসিআইকে চাল দিয়ে টাকা পরে পেলে রাজ্যের উপর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে। এফসিআই অগ্রিম টাকা দেবে, কেন্দ্রীয় নীতি এরকম হলে কিন্তু রাজ্য সহজেই চাল দিতে পারত। এতে আরও বহু চাষি সরকারের কাছে বেশি দামে ধান বেচে উপকৃত হতেন। চলতি খরিফ মরশুমে এপর্যন্ত প্রায় ২৬ লক্ষ চাষি সরকারের কাছে ধান বেচেছেন—প্রায় ৪৮ লক্ষ টন। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরও ধান কিনবে রাজ্য সরকার।