সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: দেশের বিভিন্ন জায়গায় ড্রোন হামলার সতর্কবার্তা দিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। এই মর্মে বার্তা পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পাশাপাশি দেশের সমস্ত রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ডিজিপিকে। সেই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে ডিআরডিও, এনটিআরও, পারমাণবিক শক্তি দপ্তরের সচিব সহ অসামরিক বিমান পরিবহণ, এনএসজি, নেভি এবং এয়ারফোর্সের প্রধানদের। নবান্নের এক বিশেষ সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে।
ওই সতর্কবার্তায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, ‘গোটা দেশে ভিআইপি ও ভিভিআইপিদের বাসভবন, তাজমহল, স্বর্ণমন্দিরের মতো ঐতিহাসিক সৌধ, দূতাবাস, বিধানসভা, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, জল সরবরাহ কেন্দ্র, বিমানবন্দর, স্টক এক্সচেঞ্জ, বড় রেল স্টেশন, পারমাণবিক শক্তিকেন্দ্র, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র এবং সেনাবাহিনীর ওপর হামলা চালানো হতে পারে।’ ঠিক কীভাবে হামলা চালানো হতে পারে বলে আশঙ্কা? গোয়েন্দারা মনে করছেন, মূলত দূর নিয়ন্ত্রিত ড্রোনের সাহায্যে দেশের স্পর্শকাতর এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটানো হতে পারে। ড্রোনের মাধ্যমে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আইইডি, বোমার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক পাঠিয়ে দেশের অভ্যন্তরে বড়সড় হামলার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তবে কে বা কারা এই হামলা চালাতে পারে, তা নিয়ে নির্দিষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এই সতর্কবার্তা হাতে আসার পর দেশজুড়ে নিরাপত্তার কড়াকড়ি করা হয়েছে। বিশেষ করে, ২০১৯ সালে ড্রোন সংক্রান্ত যে আদর্শ বিধি বা এসওপি তৈরি করা হয়েছিল, তা কার্যকর করতে জোর দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এ রাজ্যের সব জেলার এসপি, রেল পুলিসের সুপার, আইবি, পুলিস কমিশনারদের সতর্ক করেছেন রাজ্য পুলিসের এডিজি (আইন শৃঙ্খলা) জাভেদ শামিম। কিন্তু সমস্যা হল, কলকাতা বা রাজ্য পুলিস কারও কাছেই ড্রোন হামলা ঠেকানোর সরঞ্জাম বা ‘অ্যান্টি ড্রোন ডিভাইস’ নেই। অতীতে দেখা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির মতো ভিভিআইপি কলকাতা সফরে এলে লালবাজারকে এসপিজি’র কাছ থেকে ‘অ্যান্টি ড্রোন ডিভাইস’ ধার করতে হয়। ফলে এই মুহূর্তে এ রাজ্যে ড্রোন হামলার মতো ঘটনা ঘটলে একমাত্র ভরসা সেই সেনাবাহিনী। তবে সূত্রের খবর, কলকাতা পুলিস ইতিমধ্যে ড্রোন হামলা ঠেকানোর সরঞ্জাম কিনতে উদ্যোগী হয়েছে। উল্লেখ্য, ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পর কলকাতা সহ রাজ্যের কয়েকটি সীমান্তবর্তী জেলায় রাতের আকাশে ড্রোনের আনাগোনা নজরে এসেছে। সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ড সেই ঘটনার তদন্ত করছে।