বিশ্বজিৎ দাস ও সৌম্যজিৎ সাহা, কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ২০১১ সালে দেশের নজর পড়েছিল রাজ্যের দিকে। বলা ভালো, হাওড়ার পাঁচলায়। দেশ-বিদেশের স্বাস্থ্যক্ষেত্রের রথী-মহারথীরা চলে এসেছিলেন সেখানকার দেড় বছরের এক শিশুকন্যার বাড়িতে। মেয়েটির পোলিও ধরা পড়ে। তারপর পোলিও সচেতনতার ধুম পড়েছিল রাজ্য সহ গোটা দেশে। ২০১৪ সালে ভারতকে পোলিওমুক্ত দেশ ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তারপরও ঝুঁকি কম নেই! কারণ, ২০১১ সালের পর থেকে ওয়াইল্ড পোলিও ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা না ঘটলেও প্রতি মুহূর্তে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ, প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ সীমানা। পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে পোলিও সংক্রমণের খবর আসে যখন-তখন। এই অবস্থায় বাংলা সহ দেশের সবক’টি রাজ্য থেকে পোলিও নজরদারির অফিস তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। এর ফলে দেশজুড়ে প্রায় ৮০০ জন বিভিন্ন স্তরের কর্মীকে কাজ হারাতে হতে পারে। আগে এই প্রকল্পের নাম ছিল ‘ন্যাশনাল পোলিও সার্ভেইলেন্স প্রজেক্ট’। ১৯৯৯ সালে প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল। প্রথমদিকে এই অফিসগুলি কেবল পোলিও নজরদারির কাজ করলেও পরে ব্যাপ্তি বাড়ে। হাম, রুবেলা, ডিপথেরিয়া, সদ্যোজাতদের টিটেনাস সহ নানা রোগের নজরদারিতে ভূমিকা রাখে অফিসগুলি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) কর্মী-অফিসাররা এগুলি পরিচালনা করতেন। আর্থিক সাহায্য করত কেন্দ্র। তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক ও রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে।



