Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

লুঙ্গিতে আপত্তি কেন্দ্রীয় বাহিনীর, ভোট দিতে হল পোশাক বদলেই!

গ্রামে ভোট মানেই এক চেনা ছবি—লুঙ্গি, গেঞ্জি, কাঁধে গামছা। আর এই সাজেই বুথের দিকে হাঁটা। বছরের পর বছর এভাবেই ভোট দিয়ে আসছেন মানুষ। সেই স্বাভাবিকতার মাঝেই এবার ধাক্কা।

লুঙ্গিতে আপত্তি কেন্দ্রীয় বাহিনীর,  ভোট দিতে হল পোশাক বদলেই!
  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: গ্রামে ভোট মানেই এক চেনা ছবি—লুঙ্গি, গেঞ্জি, কাঁধে গামছা। আর এই সাজেই বুথের দিকে হাঁটা। বছরের পর বছর এভাবেই ভোট দিয়ে আসছেন মানুষ। সেই স্বাভাবিকতার মাঝেই এবার ধাক্কা। অভিযোগ, লুঙ্গি পরে ভোট দিতে আসায় একাধিক ভোটারকে বুথে ঢুকতে বাধা দিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। ঘটনাটি গাইঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রের কুচলিয়া গ্রামের ১৮৯ নম্বর বুথের। বাসিন্দাদের দাবি, বুথে পৌঁছতেই বলা হয়, লুঙ্গি পরে বুথে যাওয়া যাবে না। কারো আপত্তি গ্রাহ্য করা হয়নি।  সংশ্লিষ্ট ভোটাররা পরে পোশাক বদলেই ভোট দেন। গণেশ মজুমদার নামে এক ভোটার বলেন, লুঙ্গি পরে আমাকে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি।  শেষমেশ বাড়ি ফিরে গিয়ে পোশাক পাল্টে এসে ভোট দিয়েছি। এমন আপত্তি অতীতে কখনো ওঠেনি। তাঁর প্রশ্ন ও বিস্ময়, তাহলে কি কেন্দ্রীয় বাহিনী পোশাকও ঠিক করে দেবে! একই অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন দেসের আলি মণ্ডলও। তিনি বলেন, বাড়ির পোশাকেই ভোট দিতে গিয়েছিলাম। পরনে ছিল লুঙ্গি। এতদিন কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু এবার কেন্দ্রীয় বাহিনী আটকে দিল। এক কিমি দূরে বাড়ি ফিরে নাতির প্যান্ট পরে আবার এসে ভোট দিলাম। এ তো অরাজকতা! গ্রামবাসীদের অনেকের মতে, লুঙ্গি এখানে শুধু পোশাক নয়, দৈনন্দিন জীবনের অংশ। খেতের কাজ, বাজার, পাড়ার আড্ডা—সবেতেই এই পোশাক। ভোটের দিনও তার ব্যতিক্রম হয় না। তাই এই কড়াকড়ি তাঁদের কাছে অস্বাভাবিক। প্রবীণ বাসিন্দা দেবল দাসের কথায়, এভাবেই তো বরাবর ভোট দিয়ে এসেছি। আজ হঠাৎ এমন আপত্তি কেন? এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুথের সামনে কিছু সময়ের জন্য বচসাও চলে। যদিও বড়ো কোনো অশান্তি হয়নি। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবু, অস্বস্তির রেশ রয়েই গিয়েছে গ্রামে। জেলা প্রশাসন অবশ্য এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। জেলা প্রশাসনের এক কর্তা জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ