Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কাউন্সিলার বাপ্পাকে বের করতে এল কেন্দ্রীয় বাহিনী

কলকাতার কাউন্সিলার বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত গ্রেপ্তারির পর পাটুলি থানায় উত্তেজনা ছড়ায়। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন। বিস্তারিত পড়ুন।

কাউন্সিলার বাপ্পাকে বের করতে এল কেন্দ্রীয় বাহিনী
  • ৮ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাতের রেশ থাকল সকালেও! কলকাতা পুরসভার ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের গ্রেপ্তারিতে রবিবারও জনরোষ আছড়ে পড়ল পাটুলি থানার বাইরে। গত ১০ বছর ধরে তাঁর ‘তোলাবাজিতে’ এলাকার মানুষ কতটা বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ ছিলেন, বাপ্পাদিত্য গ্রেপ্তার হওয়ার পর সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের চেহারাতেই তা স্পষ্ট হয়েছে। ধৃত কাউন্সিলারকে এদিন থানা থেকে নিয়ে গিয়ে আদালতে পেশ করতে রীতিমতো বেগ পেতে হয় পুলিশকে। উত্তেজিত জনতার ভিড় ঠেলে অভিযুক্তকে গাড়িতে তুলতে সময় লেগে যায় প্রায় দু’ঘণ্টা। বিক্ষুব্ধদের ঠেকাতে মোতায়েন করতে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। তারপরও যখন ধৃতকে বের করে গাড়িতে তোলা হচ্ছিল, তখন কার্যত ডিম-বৃষ্টি শুরু হয়। কোনোরকমে তাঁকে পাটুলি থানার গাড়িতে তোলা হয়। 

Advertisement

সম্প্রতি এই কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও হুমকির অভিযোগ জমা পড়ে পাটুলি থানায়। অভিযোগকারিণী পারমিতা দে পেশায় একজন আইনজীবী। তাঁর দাবি, বাড়ির নীচে আইনি পরামর্শদানের চেম্বার তৈরির জন্য তাঁর কাছে ২০ লক্ষ টাকা তোলা চাওয়া হয়। ভোটে সরকার বদলের পরই তিনি পাটুলি থানায় বাপ্পার বিরুদ্ধে তোলবাজি ও হুমকির অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে শনিবার পাটুলির বি ব্লকের বাড়িতে পৌঁছে যান তদন্তকারীরা। চারতলা বিলাসবহুল বাড়ি ‘ফাগুন-ছায়া’ থেকে আটক করা হয় কাউন্সিলারকে। থানায় নিয়ে গিয়ে চলে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ। তাঁর গ্রেপ্তারির খবর চাউর হতেই পাটুলি থানার বাইরে ভিড় জমান বিজেপি কর্মী, সমর্থক থেকে শুরু সাধারণ মানুষ। ‘চোর, চোর’ স্লোগান ওঠে। গভীর রাত পর্যন্ত চলে সেই বিক্ষোভ। রবিবার সকাল থেকে ফের ভিড় জমতে শুরু করে থানার বাইরে। পরিস্থিতি বুঝে সাউথ সাবার্বান ডিভিশন থেকে বাড়তি ফোর্স আনায় পুলিশ। একসময় ভিড়ের চাপে থানার মূল দরজা প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় অভিযুক্তকে কীভাবে আলিপুর আদালতে নিয়ে যাওয়া হবে, চিন্তায় পড়ে পুলিশ। ভিড়ের সামনে সারিতে যাঁরা দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের প্রায় প্রত্যেকের হাতে ডিম। এমনকি, থানার বাইরে একজনকে ২০ টাকায় একটি পচা ডিম বিক্রি করতে দেখা যায়। হঠাৎ পচা ডিম বিক্রি করছেন কেন? বিক্রেতা বলেন, ‘পাঁচ বছর প্রচুর জ্বালিয়েছে। পেট চালাতে ছোটো একটা মুদি দোকান খুলেছিলাম। লোক পাঠিয়ে ৫০ হাজার টাকা তোলা চেয়েছিল। আবার পুজোর জন্য মোটা টাকা  চাঁদার বিল পাঠাত।’
দুপুর দেড়টা নাগাদ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ঢাল দিয়ে আড়াল তৈরি করেন। তার মধ্য দিয়ে কাউন্সিলারকে টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তোলে পুলিশ। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তাঁকে গাড়িতে তোলা গেলেও তার মধ্যেই উড়ে আসে অজস্র ডিম। পচা ডিমের দুর্গন্ধে ভরে যায় থানা। কিছুক্ষণ পর আলিপুর আদালতে পেশ করা হয় বাপ্পাদিত্যকে। আলিপুর আদালতের বার অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি সুব্রত সর্দার বলেন, ‘অভিযোগকারী নিজেই একজন আইনজীবী। তাঁর আবেদনক্রমে কোনো আইনজীবী এই মামলায় থাকবেন না।’ সরকারি আইনজীবী সৌরীণ ঘোষাল বলেন, ‘অভিযোগকারিণী আইনজীবীর চেম্বার পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ভাঙচুর চলে। তাঁকে প্র্যাকটিসে করতে দেওয়া হচ্ছিল না। দুই লক্ষ টাকা দেনও তিনি। তারপরও অত্যাচার চলে। বাপ্পার বিরুদ্ধে তোলাবাজির আরও ৫টি অভিযোগ জমা পড়েছে। ২১ জুন পর্যন্ত ধৃতের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ