


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দু’টি জল্পনা মোদি সরকারের আমলে সর্বদা শোনা যায়। প্রথমত দেশজুড়ে এনআরসি হবে কি না এবং দ্বিতীয়ত শুধুমাত্র নাগরিকত্বের জন্য কোনও স্মার্ট কার্ড ইস্যু হবে কি না। দুটি ক্ষেত্রেই সরকার একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এই পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু কখনই স্পষ্ট কোনও উত্তর দিয়ে জল্পনা মেটানোর চেষ্টা করেনি। এমনকী, সংসদেও এসংক্রান্ত প্রশ্ন করা হলে উত্তর এসেছে, এখনই সেরকম কোনও পরিকল্পনা নিয়ে সরকার অগ্রসর হচ্ছে না। দেশজুড়ে নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রবল বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই আবহে ফের সরকারের অন্দরে নতুন একটি নাগরিকত্ব কার্ড চালু করা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। যেহেতু ভোটার কার্ড এবং আধার কার্ডকে বলা হয়েছে নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়, তাই বিরোধী রাজনৈতিক দল ও দেশবাসী জানতে চাইছে, তাহলে নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র কোনটা? বলা হচ্ছে জন্ম সার্টিফিকেট এবং পাসপোর্ট। এই দু’টিই কোটি কোটি ভারতবাসীর কাছে নেই। তাহলে তারা কি নাগরিকত্বের প্রমাণ ছাড়া বসবাস করছেন?
প্রশ্ন উঠছে, আধার কার্ড দেখিয়েই ভোটার কার্ড করা যায়, অথচ সেই আধার কার্ডই যদি নাগরিকত্বের প্রমাণ না হয়, তাহলে কীসের ভিত্তিতে সেটিকে গ্রহণ করা হচ্ছে? এই পরিস্থিতিতেই ফের আলোচনা শুরু হয়েছে, দেশজুড়ে এসআইআর এবং জনগণনা হয়ে যাওয়ার পর শুধুমাত্র বৈধ নাগরিকদের জন্য স্মার্ট সিটিজেনশিপ কার্ড ইস্যু করা হবে। সম্প্রতি তৃণমূল এমপি মালা রায়ের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সংসদে জানিয়েছিল, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে প্রত্যেক নাগরিককে বাধ্যতামূলকভাবে নথিভুক্ত করার ও তাকে সিটিজেনশিপ কার্ড দেওয়ার সম্পূর্ণ অধিকার দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রকে। এই উত্তর থেকেই স্পষ্ট, কেন্দ্র ফের ন্যাশনাল সিটিজেনশিপ কার্ড ইস্যু করার বিষয়টি ভাবছে।