নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: কেন্দ্র ২০১৯ সালে ঢাকঢোল পিটিয়ে ‘হর ঘর জল’ প্রকল্প চালু করেছিল। জল জীবন মিশনে কেন্দ্র ও রাজ্যের শেয়ার সমান। ২০২৪ সালের আগস্টের পর কেন্দ্রের বিজেপি সরকার প্রকল্পে বরাদ্দ বন্ধ করে। রাজ্য সরকার তারপর থেকে নিজের উদ্যোগে ঝাড়গ্রামে ১ লক্ষ পরিবারে জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে।
ঝাড়গ্রাম জেলা জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তররের আধিকারিক রাহুল মণ্ডল বলেন, কেন্দ্রের এই প্রকল্পে জেলায় এক লক্ষ বাড়িতে জল পৌঁছে যাচ্ছে। কেন্দ্র সরকারের ওই রিপোর্টেই পরিসংখ্যান স্পষ্ট। রাজ্য সরকারের তহবিল থেকে জল সরবরাহের যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণের খরচ হচ্ছে।
ঝাড়গ্রাম মূলত শুখাপ্রবণ। তীব্র গরমে ভূগর্ভস্থ জলস্তর নেমে গিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পানীয় জলের সঙ্কট দেখা দিচ্ছে। প্রকল্পের খাতে কেন্দ্রের প্রতি বছর ৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা। ২০২৪ সালে কেন্দ্র সরকার শেষবার আড়াই হাজার কোটি টাকা দিয়েছিল। এই প্রকল্পের বরাদ্দ অর্থ তারপরেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঝাড়গ্রামে ২ লক্ষ ৫৫ হাজার ৩৯১টি বাড়িতে জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে ১ লক্ষ ৫৫ হাজার ৮৫৯টি বাড়িতে পাইপ লাইনের সংযোগের কাজ হয়। অর্থ বরাদ্দ বন্ধ হওয়ায় প্রকল্পের কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
এই পরিস্থিতিতে ১ লক্ষ পরিরারে জল পৌঁছানো যাতে বন্ধ না হয়, তার উদ্যোগ নেয় রাজ্য সরকার। পানীয় জল সরবরাহের যাবতীয় ব্যয় রাজ্য সরকার নিজেই বহন করা শুরু করে। রাজ্য সরকার ২০২৫ সালের মার্চ মাসে নিজের শেয়ারের থেকে অনেক বেশি টাকা দিয়ে ঠিকাদারদের পাশে দাঁড়ায়। ভোটপর্বে রাজ্য আসা কেন্দ্রের বিজেপি নেতারা জলজীবন মিশন নিয়ে অভিযোগ, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা পাঠালে রাজ্যের গ্ৰামীন এলাকার অর্ধেক বাড়িতে জলের সংযোগ নিশ্চিত করেনি। কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্টটে ঝাড়গ্রামের মতো ক্ষরাপ্রবণ জেলায় ১ লক্ষ বাড়িতে জল পৌঁছে যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।
কেন্দ্রীয় প্রকল্পের শেয়ারের টাকা বন্ধ করার পরেও রাজ্য সরকারের উদ্যোগে জল সংযোগের কাজ থেমে নেই। জেলার জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী,বিনপুর -২ ব্লকে ৩৩ হাজার ১৬২ বাড়িতে জলের সংযোগ দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ২৩ হাজার ১৮১টি বাড়িতে জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বিনপুর -২ ব্লকে ৩৬ হাজার ৮২০ টির লক্ষ্যমাত্রার নিরিখে ১৭ হাজার ৪২০বাড়িতে, গোপীবল্লভপুর -১ ব্লকে ২৫ হাজার ৬৮০ মধ্যে ১৭ হাজার ৭০৭ বাড়িতে , গোপীবল্লভপুর -২ ব্লকে ২৫ হাজার ১৬৮ টির মধ্যে ৮ হাজার ৩৭৭বাড়িতে , জামবনী ব্লকে ২৬ হাজার ৫২০মধ্যে ১৪ হাজার ৫৯৬বাড়িতে ,ঝাড়গ্রাম ব্লকে ৪০ হাজার ৩৭৩ টির মধ্যে ১৯ হাজার ২৭৮ টি বাড়িতে, নয়াগ্ৰামে ৩৮ হাজার ৯৮২ টির মধ্যে ৩২ হাজার১৯৫ টি বাড়িতে , সাঁকরাইল ব্লকে ২৮ হাজা ৬৮৬ টির মধ্যে ২৩ হাজার ১৯৫ টি বাড়িত জল সংযোগের কাজ হয়ে গিয়েছে। গ্ৰামীন এলাকার ১ লক্ষ বাড়িতে ইতিমধ্যেই জল পৌঁছে যাচ্ছে। রাজ্য সরকার জল সরবরাহের ব্যায় নিজে কাঁধে তুলে নিয়েছে।
বিনপুর -২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশচন্দ্র সর্দার বলেন, আদিবাসী অধ্যুষিত এই এলাকার কুড়ি হাজারের বেশি মানুষ পানীয় জল পাচ্ছেন। দেড়দশক আগেও পরিশ্রুত পানীয় জল পাওয়া এই এলাকায় ছিল স্বপ্ন। -ফাইল চিত্র