প্রীতেশ বসু, কলকাতা: অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের দাবির মান্যতা দিতে বাধ্য হল কেন্দ্র। গঙ্গা ভাঙন রোধে বাংলা, বিহার এবং ঝাড়খণ্ডকে নিয়ে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে গঙ্গা ফ্লাড কন্ট্রোল কমিশনকে। কেন্দ্রের জলশক্তি মন্ত্রক এই নির্দেশ দিয়েছে। কবে কমিশনের তরফে এই তিন রাজ্যকে নিয়ে সমন্বয় বৈঠক ডাকা হয়, আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের প্রশাসনিক মহল।
গঙ্গা ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলা। তুলনায় কম হলেও একই সমস্যার শিকার বিহারের বহু এলাকা। ভাঙনের ফলে রাজ্যের মানুষের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি চিঠি লিখেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। ১৪ জুন এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। সেই সঙ্গে রাজ্য সেচদপ্তরের তরফেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছিল জলশক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে। গত সপ্তাহেও সেচদপ্তরের এক পদস্থ কর্তার নেতৃত্বাধীন কমিটি দিল্লি গিয়ে গঙ্গার ভাঙন রোধে কেন্দ্রের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সরব হয়। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, এ ব্যাপারে রাজ্য সরকারের ধারাবাহিকভাবে লেগে থাকার ফলেই নড়েচড়ে বসল কেন্দ্রীয় সরকার।
জলশক্তি মন্ত্রকের যুগ্মসচিব আর আর সাম্ভারিয়া চিঠিটি লিখেছেন গঙ্গা ফ্লাড কন্ট্রোল কমিশনের চেয়ারম্যানকে। তাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তিন রাজ্যের সঙ্গে কথা বলে এবং যথাযথ সমন্বয় স্থাপন করে গঙ্গা ভাঙন রোধ প্রকল্পকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে কী কী করণীয়, তা আগেই কেন্দ্রকে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহার সরকার। এতদিন তা নিয়ে কেউ কোনও উচ্চবাচ্য করেনি বলে অভিযোগ। পশ্চিমবঙ্গের অংশে ১৬৩.৫ কিলোমিটার গঙ্গাপাড়ে ভাঙন রোধের পরিকাঠামো তৈরি এবং বন্যা নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিহারে এই কাজই হওয়ার কথা ১৫ কিলোমিটার নদীপাড়ে। সেই সঙ্গে নদীবক্ষের বেশ কিছু অংশে ড্রেজিংয়ের প্রস্তাব রয়েছে। মোট ২,১৩১ কোটি টাকার এই প্রকল্পে বাংলায় কাজের জন্য প্রায়োজন পড়বে ১,৫৮০ কোটি টাকা। বিহারে কাজের জন্য দরকার ৫৮১ কোটি টাকা। এই অবস্থায় গঙ্গা ফ্লাড কন্ট্রোল কমিশনকে জলশক্তি মন্ত্রকের নির্দেশ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। তবে যতদিন না প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ হচ্ছে, ততদিন কোনও নিশ্চয়তা নেই বলেই দাবি পদস্থ আধিকারিকদের। কারণ, ২০১৫ সাল থেকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ খাতে রাজ্যকে এক টাকাও দেয়নি কেন্দ্র। এখন রাজ্যের লাগাতার চাপে তারা কিছুটা হলেও গা-ঝাড়া দিতে বাধ্য হয়েছে। - ফাইল চিত্র