Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

১০০ দিনের কাজে প্রাপ্যের হিসেবেও কেন্দ্রের গরমিল!

১০০ দিনের কাজ অবিলম্বে চালু করতে হবে— কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশই বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। ফলে দ্রুত কাজ শুরুর ব্যাপারে আশাবাদী বাংলার মানুষ। তবে বকেয়া অর্থ মেটানো নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও অব্যাহত।

১০০ দিনের কাজে প্রাপ্যের হিসেবেও কেন্দ্রের গরমিল!
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৫ ১০:১০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা:

Advertisement

১০০ দিনের কাজ অবিলম্বে চালু করতে হবে— কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশই বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। ফলে দ্রুত কাজ শুরুর ব্যাপারে আশাবাদী বাংলার মানুষ। তবে বকেয়া অর্থ মেটানো নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও অব্যাহত। আগামী দিনে উচ্চ আদালত এবিষয়ে কী নির্দেশ দেয়, সেদিকে নজর রয়েছে সকলের। কিন্তু এসবের মধ্যেই বাংলার বকেয়া প্রাপ্য নিয়ে ‘গরমিলে’র অভিযোগ উঠল কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। আর সেই ‘গরমিলে’র অঙ্কটা কম নয়, প্রায় হাজার কোটি টাকা!
২০২১ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে বাংলাকে ১০০ দিনের কাজের টাকা দেওয়া বন্ধ করেছে মোদি সরকার। এমনকি মনরেগা আইনের ২৭ নম্বর ধারা কার্যকর করে, ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে নতুন করে শ্রমদিবস অনুমোদন পর্যন্ত আটকে রাখা হয়েছে। রাজ্যের তরফে আগাগোড়াই কাগজেকলমে হিসেব পেশ করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, কেন্দ্রের অনুমোদিত কাজ বাবদ এখনও বকেয়া ৬ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা। কিন্তু, বর্তমানে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের এনআরইজিএ-সফট পোর্টালে চোখ বুলিয়ে চক্ষু চড়কগাছ নবান্নের। কারণ, কেন্দ্রের হিসেবে বাংলার বকেয়া মাত্র ৬ হাজার ২ কোটি টাকা। উধাও ৯১৭ কোটির হিসেব। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে রাজ্য প্রশাসন।  
এবিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। তিনি বলেন, ‘দুরাত্মার ছলের অভাব হয় না। শ্রমদিবস সৃষ্টি বা এই সংক্রান্ত ইস্যু নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্যের মধ্যে কোনও মতপার্থক্য তৈরি হলে, দু’পক্ষের আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়াটাই ছিল রীতি। একাধিক চিঠি, পোর্টাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন বৈঠকেও রাজ্যের বকেয়া ৬ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা বলেই জানানো হয়েছে কেন্দ্রকে। তা সত্ত্বেও প্রায় এক হাজার কোটি টাকা কম দেখানোর বিষয়টি একেবারেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। এটা কেন্দ্রের নয়া চক্রান্ত বলেই আমাদের ধারণা।’
কেন্দ্রের সাম্প্রতিক রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ২০১৭ সাল থেকেই রাজ্যের বকেয়া পুরোপুরি মেটায়নি কেন্দ্র। কিছু কিছু করে টাকা আটকে রাখা হয়েছে। সর্বাধিক বকেয়া ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের। এই দু’বছরের হিসেব নিয়ে গরমিলের অভিযোগ উঠেছে দিল্লির বিরুদ্ধে। কেন্দ্রের হিসেব অনুযায়ী ২০২১-২২ অর্থবর্ষে রাজ্যের বকেয়া ৪ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে মজুরি বাবদ ১ হাজার ৯১৬ কোটি আর সরঞ্জাম বাবদ ৩ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা। রাজ্যের হিসেবে যা হওয়া উচিত মজুরি বাবদ ২ হাজার ৮৭৪ কোটি আর সরঞ্জাম বাবদ ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মোট ৫ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। একইভাবে ২০২২-২৩ সালে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের হিসেবের ফারাক তিন কোটি টাকার। কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে টাকা না দেওয়ায় ৬৯ লক্ষ জবকার্ড হোল্ডারের বকেয়া অর্থ নিজের কোষাগার থেকে মিটিয়ে দিয়েছে নবান্ন। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক মহলের প্রশ্ন, তাহলে কি অধিকার খর্ব করতেই পোর্টালে রাজ্যের প্রাপ্য কম করে দেখাচ্ছে কেন্দ্র?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ