


চণ্ডীগড়, ২২ মে: ভারতীয় সেনা ঘাঁটিতে চলছিল সিসি ক্যামেরার নজরদারি। সেনা ছাঁউনি সংলগ্ন যাতীয় সড়কে নিয়নমিত যাতায়াতকারী সেনাবাহিনীর অফিসার, সেনা কর্মী, সেনার ট্রাকের উপর নজরদারি চালিয়ে পাকিস্তানে পাচার করা হচ্ছিল তথ্য। নজর রাখার জন্য সেনা ঘাঁটি সংলগ্ন ওই জাতীয় সড়কে বসানো হয়েছিল সিসি ক্যামেরা। ঘটনাটি ঘটেছে পাঞ্জাবের পাঠানকোটে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত বলজিৎ সিং নামে এক ব্যাক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগ, সে জাতীয় সড়কের ধারে একটি সেতুর উপর সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে সেনা বাহিনীর গতিবিধির উপর নজর রাখছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত বলজিৎ সিং পাঠানকোটের চাক ধাড়িওয়ালের গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্তের লাগানো ক্যামেরার লাইভ ভিডিও সরাসরি পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছে পৌঁছে যেত। গোয়েন্দা মারফত তার এই কার্যকলাপের খবর পাওয়া যায়। এরপরে নজর চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার কাছ থেকে একটি সিসি ক্যামেরা সহ একটি ওয়াইফাই রাউটার উদ্ধার করেছে তদন্তকারী দল। বলজিৎকে জেরা করায় জানা যায় চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ওই ক্যামেরা বসিয়েছিল সে। দুবাইয়ে থাকা এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির জন্য কাজ করছিল অভিযুক্ত। এই কাজের জন্য ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তার। তদন্তকারীদের মতে, পাঠানকোট অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা। জম্মুর সঙ্গে সংযোগকারী এই করিডর দিয়ে নিয়মিত সেনাবাহিনীর যাতায়াত করে। অতীতে এখানকার বিমানঘাঁটিতে জঙ্গি হামলা হয়েছিল। ২০১৬ সালের সেই পাঠানকোট হামলা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই কারণেই এই সেনাঘাঁটিকে ঘিরে নতুন গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। গত মাসে পাঞ্জাবের দুটি আলাদা গুপ্তচর মডিউল ভেঙে দেওয়ার দাবি করেছিল পুলিশ। তখন চিনে তৈরি সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করে সেনা ঘাঁটির ভিডিয়ো পাকিস্তানে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার সঙ্গেও বর্তমান মামলার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদিনের এই ঘটনায় মোট চার জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বলজিৎ ছাড়াও অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে বিক্রমজিৎ সিং, বলবিন্দর সিং এবং তরনপ্রীত সিং। পুলিশের সন্দেহ এরা সবাই দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত। অভিযুক্তদের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে তদন্তকারী দল।