সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: ভোট গণনার আগের দিন দুপুরে ফের উত্তেজনা দেখা দিল জঙ্গিপুর পলিটেকনিকে। রবিবার সেখানে স্ট্রংরুমের সিসি ক্যামেরা আচমকা পাঁচ মিনিটের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শোরগোল পড়ে যায়। এর আগেও জঙ্গিপুর পলিটেকনিকের স্ট্রংরুমে সিসি ক্যামেরা বন্ধের অভিযোগ উঠেছিল। এদিন শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বারবার সিসি ক্যামেরা বন্ধ নিয়ে বিভিন্ন দলের এজেন্টরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এবিষয়ে জঙ্গিপুরের মহকুমা শাসক সুধীরকুমার রেড্ডি বলেন, বাইরে এলসিডি ডিসপ্লেতে যে ক্যামেরার ছবি দেখানো হয়, সেটি টেকনিক্যাল কারণেই কিছু সময়ের জন্য বন্ধ ছিল। তবে স্ট্রংরুমের ভিতরে অন্য ক্যামেরা সচল রয়েছে। সেটা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের ডেকে দেখানোও হয়েছে। তাঁদের ওই সময়ের ভিডিয়ো ফুটেজ দেওয়া হবে।
এই স্ট্রংরুমে জঙ্গিপুর মহকুমার ছ’টি বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম রাখা হয়েছে। নিয়মমাফিক সেখানে ২৪ঘণ্টা সিসি ক্যামেরার নজরদারি চলছে। সেই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বাইরে ডিসপ্লেতে দেখতে পান বিভিন্ন দলের এজেন্টরা। এদিন দুপুর ১টা ৩০মিনিট নাগাদ ওই ক্যামেরা পাঁচ মিনিটের জন্য বন্ধ হয় যায়। সেখবর চাউর হতেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে স্ট্রংরুমের ভিতরে কী হয়েছে, তা প্রশাসনকে স্পষ্ট করতে হবে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহম্মদ নাসিম এবং এসডিপিও প্রবীর মণ্ডল। জঙ্গিপুরের মহকুমা শাসক সুধীরকুমার রেড্ডিও এসে পৌঁছান। ক্ষোভ প্রশমিত করতে সমস্ত রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের নিয়ে স্ট্রংরুম পরিদর্শনে যান আধিকারিকরা। সব কিছু খুঁটিয়ে দেখার পর প্রশাসন আশ্বাস দেয়, সমস্ত ইভিএম সুরক্ষিত আছে। টেকনিক্যাল কারণেই সিসি ক্যামেরা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
সাগরদিঘির তৃণমূল প্রার্থী বাইরন বিশ্বাসের নির্বাচনি এজেন্ট মেহবুব আলম বলেন, সব কিছু ঠিকঠাকই রয়েছে দেখলাম। তবে নির্বাচন কমিশনের উপর আমাদের বিন্দুমাত্র ভরসা নেই। তারা বিজেপিকে জেতাতে চক্রান্ত করতে পারে।
এর আগেও জঙ্গিপুর পলিটেকনিকে স্ট্রংরুমের সিসি ক্যামেরা বন্ধের অভিযোগ তুলেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস। এছাড়া, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে মালবোঝাই পিকআপ ভ্যান নিয়ে যাওয়া নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। বিভিন্ন দলের এজেন্টরা সেই পিকআপ ভ্যান আটকে তল্লাশিও চালিয়েছিলেন।