Bartaman Logo
২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিলাসবহুল এসি গাড়িতে এসে গোরু চুরি!

বিধাননগরের মন্দিরের সামনে বিলাসবহুল গাড়িতে গোরু চুরি। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। গোরুর মালিকের দুঃখজনক অবস্থা। বিস্তারিত পড়ুন।

বিলাসবহুল এসি গাড়িতে এসে গোরু চুরি!
  • ২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: মাঝরাত। মন্দিরের সামনে ঘুমোচ্ছিল দু-দু’টি দুধেল গোরু। ঠিক তার পাশেই এসে দাঁড়িয়েছিল বিলাসবহুল একটি এসি গাড়ি। সেটির দাম প্রায় কুড়ি লক্ষ টাকা। কে জানত সেই দামি গাড়ি চড়ে আগমন চোরবাবাজির! 

Advertisement

আশপাশ ফাঁকা। কেউ দেখার নেই। হঠাৎ ম্যাজিকের মত হাপিস করে দেওয়া হল গোরু দু’টিকে। এসি গাড়ির সঙ্গে এসেছিল একটি মাটাডোর। গোরু নিয়ে পালানোর জন্যই সেটিকে আনা হয়েছিল। সেটিতে উঠিয়ে হাওয়া করে দেওয়া হয়েছে দু’টি গোরু। 
সকাল হতেই মাথায় হাত মালিকের। সল্টলেক সেক্টর ফাইভ থেকে তাঁর দামি গোরুজোড়া চুরি গেল! মন্দিরের সামনেই তাঁদের ডেরা। আগে কেউ গোরুর গায়ে হাত বোলানোর পর্যন্ত সাহস পেতেন না। সেই গোরু তুলে নিল গাড়িতে! চুরি করে পালাল! গোরু ফিরে পেতে তিনি এখন দ্বারস্থ হয়েছেন পুলিশের। ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। গোরু চুরির মামলা শুরু করেছে পুলিশ। বিলাসবহুল গাড়ির সূত্র ধরে শুরু হয়েছে খোঁজ।
সেক্টর ফাইভের পোলেনআইট এলাকার এই গোরু চুরির ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল ছড়িয়েছে। গোরুর মালিকের বাড়িতেই রয়েছে হরি মন্দির। দু’টি গোরু রাতে সামনেই শুয়ে থাকত। একটির রং কালো, অপরটির গায়ের রং সাদা। এলাকার মানুষও সাদা-কালোর সঙ্গে পরিচিত। ২৫ জুন রাত আড়াইটে নাগাদ দুষ্কৃতীরা এসেছিল মন্দিরের কাছে। প্রথমে কালো রঙের ওই বিলাসবহুল এসি গাড়িটি আসে। এত দামি গাড়িতে মাঝরাতে কে এসেছে? পাশেই আইটি হাব। তাই সেভাবে কেউ আমল দেননি। সেই গাড়িতে চোর এসেছে কল্পনাই করতে পারেনি সল্টলেকের মানুষ। বাংলাদেশ সীমান্তঞ্চলের মানুষ অবশ্য জানেন রাতের অন্ধকারে এসি গাড়িতে বাছুর পাচার হয়। কিন্তু আস্ত গোরু? তাও আবার শহরে! এসি গাড়ির পিছনেই ছিল ৪০৭ মাটাডোর। তাতেই তোলা হয় গোরু দু’টিকে। তারপর চম্পট।
২৭ জুন গোরুর মালিক সেক্টর ফাইভের ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশের কাছে তাঁর আর্জি, স্যার আমার পোষা গোরু জোড়া ফিরিয়ে দিন। আইটি হাবের পুলিশও হতবাক। সহকর্মীর হাতে শ্লীলতাহানি, ভিড় বাসে পকেটমারি, গাড়ির ধাক্কায় পথচারির মৃত্যু, এতকাল এই ধরণেরই অভিযোগ পেয়ে এসেছে এই থানা। কিন্তু গোরু চুরির অভিযোগ কার্যত প্রথম। পুলিশ অবশ্য হালকাভাবে নেয়নি। বিএনএস ৩০৩ (২) ধারায় চুরির মামলা শুরু হয়েছে। বিলাসবহুল গাড়ি ও মাটাডোরের রং জানা গেলেও নম্বর জানা যায়নি। তাই আপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে গোরু চোর শনাক্তকরণে। ধরা পড়লে তবে চুরির উদ্দেশ্য বোঝা যাবে। গোরু চুরির কোনো চক্র সক্রিয় হয়েছে কি না তাও উঠে আসবে তদন্তে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ