


সংবাদদাতা, বনগাঁ: গত এক বছরের বেশি সময় বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে গোরু পাচার বন্ধ ছিল। নতুন করে আবারও শুরু হচ্ছে সেই কারবার। গোয়েন্দা সূত্রে এমনই খবর জানা গিয়েছে। রমজান মাস আসার আগেই শুরু হয়েছে ‘ট্রায়াল রান’। সম্প্রতি বাগদার বাংলানী সীমান্ত দিয়ে চারটি গোরু বাংলাদেশে পাচার হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। বাংলানী সীমান্তে কোদালিয়া নদীর উপর একটি ব্রিজ রয়েছে। গত বছর এপ্রিল মাসে পাথরবোঝাই একটি লরি যাওয়ার সময় ব্রিজটি ভেঙে যায়। সেই ভাঙা ব্রিজের নীচ দিয়ে হাঁটাপথে চারটি গোরু বাংলাদেশে পাচার করা হয়েছে। সূত্রের দাবি, সকাল ৬ টা নাগাদ গোরুগুলি পাচার করা হয়েছে।
বনগাঁ মহকুমার সুটিয়া , আংরাইল, বাঁশঘাটা, বাংলানী , পেট্রাপোল একসময় গোরু পাচারের ‘সেফ করিডর’ হয়ে উঠেছিল। একটি গোপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পাচার চলত। পাচারের সময় সীমান্তের চাষিদের ফসল নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠত। প্রতিবাদ করে দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হতেন সীমান্তের বাসিন্দারা। প্রশাসন কঠোর হওয়ায় গত এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ পাচার। সম্প্রতি ফের নতুন করে শুরু হয়েছে পাচার। তবে এখনও আগের মতো রমরমিয়ে পাচার শুরু হয়নি। তাই আপাতত ‘ট্রায়াল রান’ চলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মূলত ভিন রাজ্য থেকে গাড়িতে করে গোরু আনা হতো বনগাঁ সীমান্তে। প্রথমে কোনও গোপন জায়গায় গোরুগুলি রাখা হতো। সুযোগ বুঝে পার করে দেওয়া হতো বাংলাদেশে। এই কাজে মূলত শিশু ও কমবয়সি যুবকদের যুক্ত করা হতো। বাংলাদেশে গোরুর যথেষ্ট চাহিদা থাকায় বাড়তি লাভের আশায় অনেকেই এই ব্যবসায় নামত। জানা গিয়েছে, প্রমাণ সাইজের একটি গোরু বাংলাদেশের মুদ্রায় প্রায় আড়াই লক্ষ টাকায় বিক্রি হতো। ভিন রাজ্য থেকে সেই গোরু ৩০-৪০ চল্লিশ হাজার টাকায় কিনত পাচারকারীরা। রাস্তায় বিভিন্ন দিক ‘ম্যানেজ’ করতে একটি গোরু পিছু ৩৩-৩৫ হাজার টাকা খরচ হতো। বাকি টাকাটা লাভ। তবে ‘লাইন’ খারাপ থাকলে খরচ বাড়ত। এই অবস্থায় ফের গোরু পাচারের খবরে শঙ্কিত সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা।