Bartaman Logo
১৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জাতি শংসাপত্র যাচাই: রাজ্যের বিজ্ঞপ্তিতে কোর্টের স্থগিতাদেশ

জাতিগত শংসাপত্র যাচাই সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল হাইকোর্ট।

জাতি শংসাপত্র যাচাই: রাজ্যের বিজ্ঞপ্তিতে কোর্টের স্থগিতাদেশ
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জাতিগত শংসাপত্র যাচাই সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল হাইকোর্ট। জাতিগত শংসাপত্র যাচাইয়ের ব্যাপারে রাজ্য সরকার ১৪ মে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। তাতে বলা হয়, ২০১১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এসসি, এসটি এবং ওবিসির যেসব শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে, তা যাচাই করা হবে। ‘ভুয়ো’ প্রমাণিত শংসাপত্রগুলি বাতিলও করা হতে পারে। 

Advertisement

এই বিজ্ঞপ্তির সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সিপিআই (এমএল) লিবারেশন। মঙ্গলবার শুনানির পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এদিন এক নির্দেশে জানিয়েছে, মামলার নিষ্পত্তি বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই বিজ্ঞপ্তির উপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ বজায় থাকবে। তবে রাজ্যের কাছে নির্দিষ্টভাবে কোনো অভিযোগ জমা পড়লে, তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন জেলার অফিসাররা।
শুনানিতে মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য দাবি করেন, শংসাপত্র বাতিল করার ক্ষেত্রে রাজ্যের এই ধরনের ক্ষমতা নেই। রাজ্যের এই পদক্ষেপের শিকার হবেন পিছিয়ে পড়া শ্রেণির অন্তত ১ কোটি ৬৯ লক্ষ মানুষ। তাঁদের অনেকের নাম এসআইআর ট্রাইব্যুনালে বিচারধীন। ফলে এই নথি সেখানে দাখিল করতে পারবেন না তাঁরা। রাজ্যের এই সিদ্ধান্ত ১৯৯৪ সালের তপসিলি জাতি ও উপজাতি চিহ্নিতকরণ আইনের পরিপন্থী বলেও দাবি করেন বিকাশরঞ্জন। তাঁর আরও দাবি, কোনোরকম জালিয়াতির অভিযোগ এবং প্রমাণ ছাড়াই এই ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ ভারতীয় সংবিধানের ১৪, ১৫(৪), ১৬(৪) ও ২১ ধারার বিরোধী। এই নির্দেশিকা পুনর্বিবেচনা করার জন্য ৪ জুন রাজ্যের কাছে আবেদন করা হয়। কিন্তু তাতে কোনো সাড়া মেলেনি।
যদিও রাজ্যের তরফে এজি সুরজিৎ নাথ মিত্র পালটা বলেন, রাজ্য সরকার এপিক, আধারসহ বিভিন্ন নথি এবং জাতিগত পারিবারিক বিষয় যাচাই করে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, এই বিজ্ঞপ্তির উপর স্থগিতাদেশ বজায় থাকবে। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলার অফিসাররা সংশ্লিষ্ট শংসাপত্র যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। আদালতের এই নির্দেশের পর লিবারেশনের রাজ্য সম্পাদক অভিজিৎ মজুমদার এক বিবৃতিতে অবিলম্বে সমস্ত মহকুমা প্রশাসনকে শংসাপত্র যাচাই বিষয়ক হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ