Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ উপহারের ঠেলায় নাকাল, প্রেমে প্রত্যাখ্যানের অদ্ভুত বদলা

‘ম্যাডাম, আপনার পার্সেল আছে!’ দরজার বাইরে থেকে এই ডাক শুনতে শুনতে হাঁপিয়ে উঠেছিলেন তরুণী! দীর্ঘশ্বাস ফেলে দরজা খুলতেন।

‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ উপহারের ঠেলায় নাকাল, প্রেমে প্রত্যাখ্যানের অদ্ভুত বদলা
  • ১০ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ‘ম্যাডাম, আপনার পার্সেল আছে!’ দরজার বাইরে থেকে এই ডাক শুনতে শুনতে হাঁপিয়ে উঠেছিলেন তরুণী! দীর্ঘশ্বাস ফেলে দরজা খুলতেন। দেখতেন, হাসিমুখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ডেলিভারি বয়। হাতে তাঁর প্যাকেটবন্দি জিনিসপত্র। কোনওদিন স্মার্টফোন, কোনওদিন আবার এলইডি টিভি! কোনওদিন আসছে অন্যান্য সামগ্রী। এভাবে প্রতিদিন তাঁর ঠিকানায় আসছে ‘উপহার’। সবই ক্যাশ অন ডেলিভারি (সিওডি)! অর্থাৎ, তাঁকেই দাম মিটিয়ে পণ্যটি নিতে হবে। তরুণী প্রতিবার একই ভাষায় জবাব দিতেন, ‘আমি কোনও অর্ডার করিনি। এই পার্সেল আমার নয়!’ এমন প্রতিক্রিয়ায় বিরক্ত হয়ে ফিরে যেতেন ডেভিভারি বয়রা। কিন্তু কে প্রতিদিন উপহার পাঠিয়ে এভাবে বিড়ম্বনায় ফেলছে তরুণীকে? উত্তর খুঁজতে পুলিসের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তরুণী। শুরু হয় উপহা-রহস্যের তদন্ত। অবশেষে পুলিস গ্রেপ্তার করে অভিযুক্ত যুবককে। কেন এমন করছিলেন তিনি? সেই কারণ জানতে পেরে পুলিস অফিসারদের চোখ কপালে ওঠার জোগাড়! জানা যায়, ধৃত যুবক তরুণীর কলেজ জীবনের বন্ধু। তিনি তরুণীকে ভালোবাসতেন। ‘প্রপোজ’ করে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। তাই তরুণীর ঠিকানায় ‘উপহার’ পাঠিয়ে এভাবেই ‘বদলা’ নিচ্ছিলেন ‘ব্যর্থ প্রেমিক’

Advertisement

শহরজুড়ে ’প্রেমের মরশুম’ চললেও ব্যর্থ প্রেমের গল্পে কমতি নেই! শত শত কবিতা, সাহিত্য রচনা হয়েছে ব্যর্থ প্রেম নিয়ে। কিন্তু এমন কাহিনি কার্যত বিরল। ধৃত যুবকের পরিচয় জানতে পেরে তরুণীরও মাথায় হাত। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই তরুণী ব্যাঙ্কে চাকরি করেন। বেশ কয়েকমাস ধরে তাঁর কাছে ওই পার্সেল আসছে। ধৃত যুবক বিভিন্ন ই-কমার্স সংস্থা থেকে ওই পার্সেল ‘বুক’ করে ডেলিভারির জন্য তরুণীর ঠিকানা দিয়ে দিতেন। একাধিকবার উপহার ফেরানোর জন্য কয়েকটি ই-কমার্স সংস্থা ওই তরুণীকে ‘ব্লক’ পর্যন্ত করে দিয়েছিল। ফলে তরুণী নিজে অনলাইনে কোনও অর্ডার দিলেও সামগ্রী পাচ্ছিলেন না। পুলিস জেনেছে, ওই তরুণীর ফোনে নিমিত একটি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ আসত। তরুণী কোথায় যাচ্ছেন, কী খাচ্ছেন—এসব জানতে চাওয়া হতো সেসব মেসেজে। প্রেরক নিজেকে যোগেশ কুমার নামে পরিচয় দিয়েছিল। কিন্তু কোনওদিন ফোন করেনি। তরুণী লেকটাউন থানায় যোগেশ কুমারের নামেই এফআইআর করেন। যোগেশের খোঁজ করতে করতে মঙ্গলবার নদীয়ার কুপার্স ক্যাম্প এলাকা থেকে যুবককে গ্রেপ্তার করে। তারপরই জানা যায়, ধৃত যুবক যোগেশ কুমার ছদ্মনাম নিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, ই-কমার্স সংস্থা থেকে অর্ডার দেওয়া, হোয়াটসঅ্যাপ করার জন্য তিনি মধ্যপ্রদেশের সিমকার্ড জোগাড় করেছিলেন। মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে পুলিস জানতে পারে, সিমকার্ড মধ্যপ্রদেশের ঠিকানার। কিন্তু সার্ভিস প্রোভাইডার ও লোকেশন সূত্রে জানা যায়, ‘ব্যর্থ প্রেমিক’ নদীয়ায় রয়েছেন। যুবকও চাকরি করেন। তাঁর চাকরির পড়াশোনার জন্য সবরকম সহযোগিতাও করেছিলেন এই তরুণী। কিন্তু প্রেমে প্রত্যাখ্যানের ‘বদলা’ হিসেবে এমন ‘উপহার’ জুটবে, কে জানত!

সম্পর্কিত সংবাদ